উত্তরবঙ্গের মুকুটে নতুন পালক, বিধানসভার স্পিকার হলেন রথীন্দ্র বসু! – এবেলা

উত্তরবঙ্গের মুকুটে নতুন পালক, বিধানসভার স্পিকার হলেন রথীন্দ্র বসু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায়ের সূচনা করে ১৮তম বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ (স্পিকার) হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন কোচবিহারের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। শুক্রবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর নাম প্রস্তাব করেন। এরপর প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় ধ্বনিভোটের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রথীন্দ্র বসুকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিজেপির ২০৭ জন বিধায়কের পূর্ণ সমর্থনে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়। স্বাধীনোত্তর যুগে এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনো বিধায়ক রাজ্য বিধানসভার সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আসনে আসীন হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন।

প্রথার বাইরে নতুন সমীকরণ

পেশাগত জীবনে রথীন্দ্র বসু একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এবং সক্রিয় রাজনীতিতে আসার আগে দীর্ঘদিন আরএসএস-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীকে ২৩,২৮৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি বিধায়ক হন। তাঁর এই নির্বাচন রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রথার একটি বড় ব্যতিক্রম। ঐতিহ্যগতভাবে পশ্চিমবঙ্গে আইনজীবী বা আইনি পটভূমি থাকা ব্যক্তিদেরই স্পিকার পদে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। বিগত বামফ্রন্ট জমানায় সৈয়দ আব্দুল মনসুর হাবিবুল্লাহ, হাসিম আব্দুল হালিম কিংবা পরবর্তীকালে তৃণমূল জমানার বিমান ব্যানার্জির মতো আইনজীবীরাই এই পদ অলঙ্কৃত করেছেন। সেই ধারায় বদল এনে এবার একজন আর্থিক ও সাংগঠনিক বিশেষজ্ঞের ওপর আস্থা রাখা হলো।

কারণ ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রথীন্দ্র বসুর এই মনোনয়নের পেছনে বিজেপির সুদূরপ্রসারী কৌশল কাজ করেছে। প্রথমত, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই পদের জন্য কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় তাঁর নির্বাচন শুরু থেকেই নিশ্চিত ছিল। দ্বিতীয়ত, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিজেপি নেতৃত্ব উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষা ও আবেগকে যেমন মর্যাদা দিল, তেমনই দলের দক্ষ ও উদীয়মান মুখগুলোকে পুরস্কৃত করার নীতি বজায় রাখল।

এই পরিবর্তনের ফলে বিধানসভা পরিচালনায় এক নতুন প্রশাসনিক ঘরানা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আইনি মারপ্যাঁচের চেয়ে আর্থিক ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় নতুন স্পিকারের পেশাগত অভিজ্ঞতা হাউসের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে, উত্তরবঙ্গ থেকে প্রথম স্পিকার নির্বাচন আগামী দিনে রাজ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *