মাঠে নেমে অ্যাকশন! অবৈধ গরু পাচার রুখে ফের চর্চায় সন্দেশখালির ‘প্রতিবাদী মুখ’ রেখা পাত্র – এবেলা

মাঠে নেমে অ্যাকশন! অবৈধ গরু পাচার রুখে ফের চর্চায় সন্দেশখালির ‘প্রতিবাদী মুখ’ রেখা পাত্র – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হিঙ্গলগঞ্জের দুলদুলি ফেরিঘাট এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে গবাদি পশু পাচারের চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আর সেই পাচার রুখতে এবার সরাসরি মেঠো পথে নেমে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন সন্দেশখালির আন্দোলনের পরিচিত মুখ তথা হিঙ্গলগঞ্জের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক রেখা পাত্র। শুক্রবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে হাতেনাতে ‘বেআইনি’ গরু বিক্রি ও পাচার রুখে দেন তিনি।

সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুলদুলি ফেরিঘাট দিয়ে বেআইনিভাবে ছোট আকৃতির গরু নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। খবর পাওয়া মাত্রই শাড়ির আঁচলে গা ঢেকে সাধারণ মানুষের মতোই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিধায়ক। এরপর তিনি নিজেই গাড়ি থেকে অবৈধভাবে নিয়ে যাওয়া গরুগুলি নামানোর ব্যবস্থা করেন। উদ্ধার হওয়া পশুগুলির সুরক্ষায় রাস্তার পাশে গাছের ছায়ায় বেঁধে সেগুলিকে বিচুলি ও জল খাওয়ানোর মানবিক উদ্যোগও নেন তিনি। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে।

আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ও কড়া বার্তা

পশু উদ্ধারের পর বিধায়ক রেখা পাত্র জানান, রাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচে কোনো গরু কেনাবেচা করা যাবে না। অথচ এখানে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে ছোট বাছুর ও গরু বিক্রি করা হচ্ছিল। সম্প্রতি রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে পশুবলি এবং ধর্মীয় কারণে পশুহত্যার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কড়া শর্ত আরোপ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের সেই নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই পাচারচক্র চালানো হচ্ছিল বলেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিধায়ক।

রাজনৈতিক পটভূমি ও সম্ভাব্য প্রভাব

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে বসিরহাট কেন্দ্রের প্রতিবাদী মুখ হিসেবে রেখা পাত্রকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। সে সময় সাফল্য না এলেও, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁর ওপর আস্থা রেখে হিঙ্গলগঞ্জ কেন্দ্রে প্রার্থী করে এবং তিনি জয়ী হন। বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম মাঠ পর্যায়ে নেমে তাঁর এমন সক্রিয় ভূমিকা ওই এলাকায় ব্যাপক রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত ও নদী তীরবর্তী হিঙ্গলগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই গরু পাচারের অভিযোগ উঠছে। রেখা পাত্রের এই ঝটিকা অভিযান একদিকে যেমন স্থানীয় পাচারকারীদের মনে ভীতি তৈরি করবে, তেমনই ওই অঞ্চলে বেআইনি পশুপাচার রোধে প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে সীমান্ত লাগোয়া এলাকাগুলিতে পুলিশি নজরদারি ও রাজনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *