ওষুধের জন্য চীনের ওপর চরম নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র, বড় সংকটের মুখে মার্কিন জনস্বাস্থ্য – এবেলা

ওষুধের জন্য চীনের ওপর চরম নির্ভরশীল যুক্তরাষ্ট্র, বড় সংকটের মুখে মার্কিন জনস্বাস্থ্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকার ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক খাত বর্তমানে চীনা সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর এতটাই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে যে, যেকোনো সময় বড় ধরনের ওষুধ সংকটের মুখে পড়তে পারে দেশটি। অনলাইন ম্যাগাজিন ‘দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট’-এ প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে রক্ত পাতলা করার জরুরি ওষুধ ‘হেপারিন’-এর উদাহরণ দিয়ে দেখানো হয়েছে যে, মার্কিন রোগীদের জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে চীন থেকে।

দেশীয় উৎপাদন হ্রাস ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে হেপারিন এপিআই (অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট) তৈরির দুটি প্রধান কারখানা বর্তমানে চীনা কো ম্পা নিগুলোর মালিকানাধীন। এর ফলে আমেরিকার হাতে এই ওষুধের নিজস্ব কোনো বাণিজ্যিক উৎপাদন ব্যবস্থা অবশিষ্ট নেই। ২০০৭-০৮ সালে চীন থেকে আসা দূষিত হেপারিনের কারণে ১৪৯ জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যু হলেও, যুক্তরাষ্ট্র এই নির্ভরশীলতা কমাতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। উল্টো মার্কিন কো ম্পা নিগুলো উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়ায় চীনের একচেটিয়া আধিপত্য আরও বেড়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহে বিঘ্ন

চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বায়োম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য বিশ্ববাজারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করা। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এমন পণ্যের সংখ্যা ১৯২ থেকে বেড়ে ৩১৫-এ দাঁড়িয়েছে, যেখানে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আমেরিকা ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে বেইজিং ওষুধ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটি ঘটলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন ডায়ালাইসিস রোগীরা।

আমেরিকা বর্তমানে ‘স্ট্র্যাটেজিক অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট রিজার্ভ’ (SAPIR) তৈরির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ওষুধের ছয় মাসের মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। তবে হেপারিনের মতো জটিল জৈবিক ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে আমেরিকার বর্তমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এই সংকট নিরসনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ওপর ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণহীনতা ভবিষ্যতে মার্কিন স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে পঙ্গু করে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *