নম্বর কম পাওয়ায় চরম শাস্তি! রাগে ছেলের ল্যাপটপ ভাঙলেন বাবা, বিছানা কেড়ে শুতে দিলেন মেঝেতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বোর্ড পরীক্ষার ভালো ফলের চাপ এবং পারিবারিক প্রত্যাশা কীভাবে এক লহমায় বিষাক্ত পারিবারিক হিংসায় রূপ নিতে পারে, তার এক চরম নজির সামনে এসেছে। সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় ৫৭.৪ শতাংশ নম্বর পাওয়ায় এক ছাত্রকে তার নিজের বাবার চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ক্ষোভের মাথায় বাবা কেবল ছেলের ল্যাপটপটিই ভেঙে ফেলেননি, কেড়ে নিয়েছেন তার ঘর এবং বিছানাও। ফলে ঘরের এক কোণে মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হচ্ছে ওই কিশোর। ভুক্তভোগী ছাত্রটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘রেডিট’-এ ভাঙা ল্যাপটপের ছবিসহ নিজের এই নির্মম অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করার পর ইন্টারনেটে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক বিষাক্ত পরিবেশ ও সমাজমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তার ওপর অনবরত মৌখিক, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় পরিবারগুলোতে পড়াশোনা নিয়ে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত চাপ এবং অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, অনেক অভিভাবকই সন্তানদের ওপর নিজেদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা চাপিয়ে দেন এবং আশানুরূপ ফল না পেলে হিংস্র আচরণ শুরু করেন। রেডিট ব্যবহারকারীরা ওই ছাত্রের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তাকে ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন এবং আগামীতে এই নেতিবাচক বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সাহস জুগিয়েছেন।
ভয়াবহ মানসিক প্রভাব ও সমাজতাত্ত্বিক উদ্বেগ
মনোবিদ ও সমাজ বিজ্ঞানীদের মতে, পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার কারণে এ ধরনের চরম ও সহিংস আচরণ কিশোর মনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অবসাদ, আত্মবিশ্বাসের অভাব এবং আত্মহননের মতো প্রবণতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিবিএসই-র মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় গড়পড়তা নম্বর পাওয়াও একটি যোগ্যতা, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা রক্ষার অন্ধ মোহে অনেক অভিভাবক একে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করেন। এই ঘটনাটি আগামী প্রজন্মের জন্য শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সন্তানদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পারিবারিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
