“প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল পূর্বতন সরকার”, আরজি কর নিয়ে মমতাকে সরাসরি নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

“প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেছিল পূর্বতন সরকার”, আরজি কর নিয়ে মমতাকে সরাসরি নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড মামলায় এবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে এক জনসভায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তাঁর দাবি, আরজি কর কাণ্ডের মূল অপরাধীদের আড়াল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল বিগত সরকার। এই ঘটনার পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশ

ফল্টায় আয়োজিত ওই সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আরজি কর কাণ্ডে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করা এবং নির্যাতিতার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টির পেছনে তৎকালীন প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছে। শুভেন্দুর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রাক্তন সরকারের ইশারায় যেসব প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তারা কাজ করেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করা যায়।

সম্পত্তি ও রাজনৈতিক হিংসার হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি

আরজি কর কাণ্ডের পাশাপাশি তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির উৎস নিয়েও সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুরসভা থেকে বেশ কিছু নথিপত্র তলব করা হয়েছে জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বেআইনি কোনো উৎস পাওয়া গেলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। একই সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে বিজেপি কর্মীদের ওপর হওয়া রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র লড়াই বলে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, শাসক শিবিরের এই সমস্ত অভিযোগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

এক ঝলকে

  • আরজি কর কাণ্ডে মূল অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
  • তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকির অভিযোগে একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে তদন্ত।
  • প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার আধিকারিকদের কল রেকর্ড ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট তলব করা হয়েছে।
  • তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কিছু সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের পাশাপাশি রাজনৈতিক হিংসার সব হিসাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *