হকি ইন্ডিয়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্য! যৌন নির্যাতনের অভিযোগে বরখাস্ত অনূর্ধ্ব-১৮ দলের সাপোর্ট স্টাফ সুধীর গোল্লা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের ক্রীড়ামহলে ফের বড়সড় ধাক্কা। উঠতি খেলোয়াড়দের যৌন নির্যাতন ও কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দলের সাপোর্ট স্টাফ সুধীর গোল্লাকে বরখাস্ত করল হকি ইন্ডিয়া। মধ্যপ্রদেশের ভোপালে জাতীয় শিবির চলাকালীন তাঁর বিরুদ্ধে প্রথম গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এরপরই ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অবস্থিত ‘সেন্টার অফ এক্সসেলেন্স’-এর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় সুধীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন।
খেলোয়াড়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঝাড়খণ্ডের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতর এবং হকি ইন্ডিয়া যৌথভাবে তদন্তে নামে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিলতেই সুধীরকে তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উঠতি হকি তারকাদের অভিযোগ, সুধীরের আচরণ ও কাজকর্ম তাঁদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও মানসিকভাবে পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছিল।
অ্যাকাডেমির সুনাম ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
রাঁচির মোরাবাদিতে অবস্থিত এই অ্যাকাডেমিটি দেশের অন্যতম সেরা হকি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এমন একটি মর্যাদাপূর্ণ সরকারি পরিকাঠামোয় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঝাড়খণ্ড সরকার ও হকি ইন্ডিয়া চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। ক্রীড়াবিদদের সুরক্ষার অভাব এবং অ্যাকাডেমির অভ্যন্তরীণ নজরদারির খামতিই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার জেরে জাতীয় স্তরে উঠতি খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। ক্রীড়ামহলের আশঙ্কা, কঠোর পদক্ষেপ না করা হলে যুব শিবিরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং তা উদীয়মান খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অভিযুক্ত সুধীর গোল্লার বিরুদ্ধে আগামীদিনে আরও কোনও কঠোর আইনি বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে।
এক ঝলকে
- জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৮ হকি দলের সাপোর্ট স্টাফ সুধীর গোল্লাকে যৌন নির্যাতন ও গাফিলতির অভিযোগে বরখাস্ত করা হয়েছে।
- ভোপালে জাতীয় শিবির চলাকালীন এবং রাঁচির মোরাবাদি সেন্টার অফ এক্সসেলেন্সে এই হেনস্থার ঘটনা ঘটে।
- ঝাড়খণ্ডের ক্রীড়া দফতর ও হকি ইন্ডিয়ার যৌথ তদন্তের পর এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
- দেশের অন্যতম সেরা অ্যাকাডেমিতে এই ঘটনায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও ক্রীড়ামহলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে।
