মুখ্যমন্ত্রী পদে প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে শুভেন্দু অধিকারী, ২০ মে উত্তরকন্যায় হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। আগামী ২০ মে শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাইভোল্টেজ প্রশাসনিক বৈঠকে বসবেন তিনি। নবান্ন ও রাজ্য সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা বৈঠকের জন্য দার্জিলিং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলার পর্যালোচনা করাই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে, নজরে দুর্গাপুর ও জনতা দরবার
উত্তরবঙ্গ সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামী ২১ মে দুর্গাপুরে আরও একটি বড়সড় প্রশাসনিক বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং পূর্ব বর্ধমান—এই পাঁচটি জেলার প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্তারা যোগ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই জোড়া সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।
এর পাশাপাশি আমজনতার ক্ষোভ ও অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে এক অভিনব উদ্যোগ নিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১ জুন থেকে নবান্নে শুরু হতে চলেছে ‘জনতা দরবার’। সপ্তাহের নির্দিষ্ট এক বা দুই দিন, দুই ঘণ্টার জন্য এই দরবার বসবে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত থাকবেন শীর্ষ আমলারাও। প্রশাসনের এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিরো টলারেন্স নীতি ও কড়া বার্তার সম্ভাব্য প্রভাব
এর আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে রাজ্যের নতুন সরকারের প্রথম প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সন্ত্রাস, তোলাবাজি বা মহিলাদের নিরাপত্তায় কোনও রকম আপোশ করা হবে间 না। সরকারি প্রকল্পে কাটমানি রুখতে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ধারাবাহিক জেলা সফর এবং পুলিশকে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনে কাজ করার কড়া নির্দেশিকার ফলে রাজ্য প্রশাসনে এক বড়সড় রদবদল ও স্বচ্ছতা আসতে চলেছে। একদিকে যেমন সরকারি স্তরে দুর্নীতি ও কাটমানি রুখতে কড়া আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে মিথ্যা মামলা বা সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের বিরুদ্ধেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দুর্গাপুরের আসন্ন বৈঠকগুলি থেকে নতুন সরকারের উন্নয়নমূলক রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল মনে করছে।
