উত্তরবঙ্গবাসীর প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সুখবর! শীঘ্রই চাকা গড়াবে নতুন দূরপাল্লার অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পাঞ্জাব থেকে উত্তরবঙ্গের সফর এবার আরও সহজ এবং আরামদায়ক হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে অমৃতসর এবং নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের বাণিজ্যিক পরিষেবা। ভারতীয় রেলের এই নতুন উদ্যোগের ফলে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও বিহার হয়ে সরাসরি উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা এক নতুন মাত্রা পাবে। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে একটি আধুনিক অথচ সাশ্রয়ী ট্রেন পরিষেবার দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাত্রীরা। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ এই রুটে ট্রেন চালানোর সবুজ সংকেত দিল।
সময়সূচি ও রুট ম্যাপ
নতুন এই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসটি সপ্তাহে একদিন করে চলাচল করবে। রেলের সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪৬৬৪ অমৃতসর-নিউ জলপাইগুড়ি ট্রেনটি প্রতি বৃহস্পতিবার অমৃতসর থেকে দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে রওনা দেবে এবং শনিবার ভোর ৪টে ১৫ মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছাবে। ফিরতি পথে ১৪৬৬৩ নিউ জলপাইগুড়ি-অমৃতসর ট্রেনটি প্রতি শনিবার সকাল ৮টায় নিউ জলপাইগুড়ি ছেড়ে সোমবার রাত ২টো ২০ মিনিটে অমৃতসরে গিয়ে পৌঁছাবে। যাত্রািলপথে ট্রেনটি জলন্ধর সিটি, লুধিয়ানা, আম্বালা ক্যান্টনমেন্ট, সাহারানপুর, মোরাদাবাদ, বেরেলি, সীতাপুর, গোন্ডা, গোরখপুর, রক্সৌল, ফরবসগঞ্জ, বাগডোগরা এবং শিলিগুড়িসহ মোট ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।
সাধারণ মানুষের বন্দে ভারত
চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি এই অমৃত ভারত এক্সপ্রেসকে মূলত সাধারণ মানুষের যাতায়াতের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন করা হয়েছে। বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের মতো আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং গতি থাকলেও এর ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। ফলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের যাত্রীরা কম খরচে দীর্ঘ দূরত্বের পথ অত্যন্ত আরামদায়কভাবে অতিক্রম করতে পারবেন।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। দার্জিলিং, ডুয়ার্স কিংবা সিকিমগামী পর্যটকদের একটি বড় অংশ এই স্টেশনের ওপর নির্ভরশীল। এর পাশাপাশি কর্মসূত্রে বা ব্যবসার প্রয়োজনে উত্তরবঙ্গের বহু মানুষকে নিয়মিত পাঞ্জাবসহ উত্তর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত করতে হয়। নতুন এই পরিষেবা চালু হওয়ার ফলে উত্তর ভারতের সঙ্গে পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। একই সঙ্গে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের ছোট ছোট শহরের বাসিন্দারা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বিদ্যমান ট্রেনগুলির ওপর অতিরিক্ত যাত্রীচাপ অনেকটাই হ্রাস পাবে বলে মনে করছে রেল মহল।
