বর্ষার শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি, সামান্য অবহেলায় লুকিয়ে বড় বিপদ! – এবেলা

বর্ষার শুরুতেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গি, সামান্য অবহেলায় লুকিয়ে বড় বিপদ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্ষার মরশুম শুরু হতেই দেশজুড়ে বাড়তে শুরু করেছে মশাবাহিত রোগের প্রকোপ। এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো ডেঙ্গি ভাইরাস বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো হওয়ায় অনেকেই এটিকে অবহেলা করেন, যা পরবর্তীকালে রোগীর জন্য মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে।

লক্ষণ যখন সাধারণ জ্বর নয়

ডেঙ্গি আক্রান্ত হওয়ার প্রথম দিকে হঠাৎ প্রচণ্ড জ্বর আসা এই রোগের প্রধান লক্ষণ। এর সঙ্গে সারা শরীরে তীব্র ব্যথা, গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, তীব্র মাথা ব্যথা এবং চোখের পিছনে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে চরম দুর্বলতা, বমি বমি ভাব এবং ত্বকে হালকা র‍্যাশ বা লালচে দাগ দেখা যেতে পারে। এই প্রাথমিক লক্ষণগুলো দেখা দিলে রোগীকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল বা তরল খাবার খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে যেকোনো ওষুধ খাওয়া এই সময়ে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

জ্বর কমার পরেই বাড়ে জটিলতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গির সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়টি শুরু হয় জ্বর কমে যাওয়ার পর। সাধারণত রোগের চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনের মাথায় পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। এই সময়ে রোগীর রক্তচাপ আচমকা কমে যেতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে পারে। একই সাথে রক্তে প্লেটলেট কাউন্ট বা অণুচক্রিকা দ্রুত হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এই স্তরটি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।

গুরুতর পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ডেঙ্গি মারাত্মক রূপ নিলে রোগীর শরীরে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হতে পারে। মাড়ি বা নাক থেকে রক্ত পড়া, বমির সঙ্গে রক্ত আসা কিংবা কালো মল হওয়া এর স্পষ্ট লক্ষণ। এছাড়া বুকে বা পেটে জল জমার কারণে তীব্র শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত অস্থিরতা এবং চরম মানসিক বিভ্রান্তি দেখা দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে এই পরিস্থিতি রোগীর অঙ্গহানি কিংবা মৃত্যুর কারণ পর্যন্ত হতে পারে। তাই প্রথম থেকেই সতর্ক থাকা এবং লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই এই রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *