শীর্ষ আদালতে কমবে মামলার পাহাড়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বাড়াতে সিলমোহর রাষ্ট্রপতির – এবেলা

শীর্ষ আদালতে কমবে মামলার পাহাড়, সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি বাড়াতে সিলমোহর রাষ্ট্রপতির – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের সর্বোচ্চ আদালতে জমতে থাকা মামলার পাহাড় এবং দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটাতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ৩৩ থেকে বাড়িয়ে ৩৭ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর রবিবার এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। শনিবারই সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করে একটি জরুরি অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি, যার ফলে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ছাড়াও এখন থেকে আদালতে আরও ৩৭ জন বিচারপতি থাকবেন।

ছয় বছর পর শীর্ষ আদালতের বিচারক সংখ্যা বাড়ানোর এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এর আগে গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত সংসদের অধিবেশনে এই ধরণের বিল পাস করানো হলেও, বর্তমান পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং মামলার বোঝা দ্রুত কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে এটিকে স্থায়ী আইনে পরিণত করা হবে বলে জানা গেছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও আইনি পরিকাঠামো

ভারতের সংবিধানের ১২৪(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে একজন প্রধান বিচারপতি এবং সংসদ দ্বারা নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি থাকার নিয়ম রয়েছে। সময়ের সাথে সাথে দেশে মামলার সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় অতীতেও একাধিকবার বিচারকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ১৯৫৬ সালে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ১০, যা পরে ১৯৬০ সালে ১৩ এবং ১৯৭৭ সালে ১৭ করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে ২৫, ২০০৮ সালে ৩০ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৩ করা হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছর পর ২০২৬ সালে এসে মামলার অভূতপূর্ব চাপ সামলাতে আবারও চারজন বিচারপতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হলো।

কারন ও দূরগামী প্রভাব

এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো সুপ্রিম কোর্টে বছরের পর বছর ধরে পড়ে থাকা লক্ষ লক্ষ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা। বিচারপতির সংখ্যা কম থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং সাংবিধানিক মামলার শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছিল, যা সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছিল।

অতিরিক্ত চারজন বিচারপতি যুক্ত হওয়ার ফলে সুপ্রিম কোর্টে মামলার নিষ্পত্তির গতি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। এটি বিচারবিভাগের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করবে এবং দেশের সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত ও সময়মতো বিচার পাওয়ার অধিকারকে আরও সুনিশ্চিত করবে। আইন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই অতিরিক্ত ৪ জন বিচারপতির নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *