সাপ বা সিংহ নয়, পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী আসলে কে জানেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পৃথিবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক বা প্রাণঘাতী প্রাণী কোনটি? এমন প্রশ্নে সাধারণত চোখের সামনে ভেসে ওঠে সিংহ, বাঘ, কুমির কিংবা বিষধর সাপের ছবি। বিশাল শরীর আর হিংস্র থাবার কারণে এই প্রাণীগুলোকেই মানুষ সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ($WHO$) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। হিংস্র কোনো বন্য জন্তু নয়, বরং মানুষের চোখের সামনে ঘুরে বেড়ানো অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক পতঙ্গ ‘মশা’ আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঘাতক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
মৃত্যুর মিছিলে মশার মারণ কামড়
মশা সরাসরি মানুষকে আক্রমণ করে না, তবে এর কামড়ের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করা জীবাণুই ডেকে আনে চরম বিপর্যয়। মশার ছড়ানো ভাইরাস এবং পরজীবীর কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস এবং ইয়োলো ফিভারের মতো মারাত্মক রোগগুলো ছড়ানোর পেছনে মূল কারিগর এই ক্ষুদ্র পতঙ্গ। এর মধ্যে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার অনুন্নত অঞ্চলগুলোতে অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় হাজার হাজার শিশু এবং সাধারণ মানুষ প্রতি বছর অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।
হিংস্র প্রাণীদের চেয়েও শত গুণ ভয়াবহ
পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে মশার ভয়াবহতার আসল চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেখানে বিষধর সাপের কামড়ে বিশ্বব্যাপী বছরে প্রায় ১ লাখের মতো মানুষের মৃত্যু হয়, সেখানে কুকুরের কামড়ে (জলাতঙ্ক) মারা যান কয়েক হাজার মানুষ। অন্যদিকে, প্রতি বছর কুমিরের আক্রমণে প্রায় এক হাজার এবং সিংহের থাবায় মাত্র কয়েকশ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এই সব হিংস্র প্রাণীর সম্মিলিত শিকারের সংখ্যার চেয়েও মশার কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েকশ গুণ বেশি। ফলে আকারের দিক থেকে ছোট হলেও মানবজাতির জন্য মশাই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হুমকি।
কারণ ও সম্ভাব্য বিপর্যয় রোধের উপায়
মূলত অপরিকল্পিত নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অসচেতনতাই মশার বংশবৃদ্ধির প্রধান কারণ। বর্ষা মৌসুমের জমে থাকা জল, যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এবং আর্দ্র আবহাওয়া মশার প্রজননের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। তবে ঘরের চারপাশে জল জমতে না দেওয়া, মশারি ও মশা তাড়ানোর ওষুধ ব্যবহার এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মতো সাধারণ কিছু সতর্কতায় এই মরণব্যাধিগুলোর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
এক ঝলকে
- বাঘ বা সাপের চেয়েও মশার কামড়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন।
- প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী মাবাহিত রোগে প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।
- মশার মাধ্যমে ছড়ানো ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও জিকা ভাইরাসের মধ্যে ম্যালেরিয়াই সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী।
- সচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং জমা জল নিষ্কাশনের মাধ্যমেই এই মহামারি ঠেকানো সম্ভব।
