বদলে গেল শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের ছবি, রেলের মেগা অভিযানে স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা – এবেলা

বদলে গেল শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনের ছবি, রেলের মেগা অভিযানে স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই কলকাতার দুই প্রধান রেল স্টেশন, শিয়ালদহ এবং হাওড়ায় শুরু হয়েছে বড়সড় হকার উচ্ছেদ অভিযান। রেল কর্তৃপক্ষের কড়া মনোভাব ও তৎপরতায় স্টেশন চত্বর থেকে উধাও হয়েছে বছরের পর বছর ধরে জেঁকে বসা অবৈধ স্টল। ১ নম্বর থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের এলাকা এখন পুরোপুরি ফাঁকা। একইভাবে হাওড়া স্টেশনের বাইরেও শনিবার রাতে বুলডোজার চালিয়ে প্রায় ১৫০টি অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের ঘিঞ্জি পরিবেশ দূর হওয়ায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত হওয়ায় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন সিংহভাগ নিত্যযাত্রী।

রাজনৈতিক পালাবদল ও রেলের কড়া পদক্ষেপ

স্টেশন সূত্রের খবর, বিগত সরকারের আমলে ইউনিয়নগুলির দাপটে স্টেশন লাগোয়া এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মতো অবৈধ স্টল গজিয়ে উঠেছিল। হকারদের থেকে নিয়মিত তোলাবাজির মাধ্যমে স্টেশন চত্বরকে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হতো। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই সেই চেনা ছবি এক রাতে বদলে গেছে। শিয়ালদহ ডিআরএম অফিস সূত্রে জানা গেছে, হকারদের আগেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই নিজে থেকে পসরা গুটিয়ে নিয়েছেন, আর যাঁরা টালবাহানা করছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীদের সুবিধার্থে একটি নির্দিষ্ট ব্যারিকেডের বাইরে হকারদের নিয়ম মেনে বসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের প্রভাব ও পুনর্বাসনের দাবি

হাওড়া স্টেশন এলাকাতেও বারবার নোটিস দেওয়ার পরেও হকারদের দাপট কমেনি, যার জেরে শনিবার রাতে বড়সড় অ্যাকশনে নামে রেল। এই অভিযানের ফলে স্টেশন চত্বরের নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই ট্রেন ধরার জন্য যাত্রীদের হুড়োহুড়ি বা যানজটের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীরা রেলের এই ভূমিকায় অত্যন্ত খুশি হলেও, উচ্ছেদের জেরে রুজি-রুটি হারানো হকারদের একাংশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হকারদের একটি বড় অংশের দাবি, স্টেশন পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নতুন সরকার যেন তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থান বা পুনর্বাসনের বিষয়টিও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *