আবারও যুদ্ধের মুখে ইরান, গোপনে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২’ এর ছক কষছে আমেরিকা! – এবেলা

আবারও যুদ্ধের মুখে ইরান, গোপনে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২’ এর ছক কষছে আমেরিকা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যে আপাতত যুদ্ধের দামামা কিছুটা থিতিয়ে এলেও তা যে ঝড়ের আগের পূর্বাভাস, সেই জল্পনা এবার সত্যি হতে চলেছে। আপাতদৃষ্টিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চললেও, ভেতরে ভেতরে ইরানের ওপর বড়সড় সামরিক আঘাত হানার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। পেন্টাগনের অন্দরমহল থেকে আসা খবর অনুযায়ী, যেকোনো মুহূর্তে তেহরানের ওপর আছড়ে পড়তে পারে আমেরিকার নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’।

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সাময়িক বিরতি

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে কোনো সরাসরি শান্তি আলোচনা চলছে না। মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং কূটনৈতিক অনুরোধের কারণেই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হোয়াইট হাউস। তিন দিনের চীন সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই সত্যতা স্বীকার করেছেন। ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি নিজে এই যুদ্ধবিরতির পক্ষে ছিলেন না। কেবল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, ফিল্ড মার্শাল এবং সে দেশের জনগণের অনুরোধের কথা মাথায় রেখেই ওয়াশিংটন আপাতত আক্রমণ থেকে বিরত রয়েছে। তবে মার্কিন রণকৌশল বলছে, এই বিরতি মূলত নিজেদের শক্তি সঞ্চয় এবং সুযোগ বুঝে চূড়ান্ত আঘাত হানার একটি কৌশল মাত্র।

পেন্টাগনের গোপন প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

পেন্টাগনের অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘অপারেশন এপিক ফিউরি ২.০’ নামের একটি বিধ্বংসী সামরিক অভিযান শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংসদের এক শুনানিতে সে দেশের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেওয়ার মতো সমস্ত পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের কাছে তৈরি রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরব দুনিয়ার দুই শীর্ষ আধিকারিক দাবি করেছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরান ও ইসরায়েলি বাহিনী যৌথভাবে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালাতে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শীর্ষ সহযোগীরা এখন কেবল ট্রাম্পের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন। ট্রাম্পের সবুজ সংকেত মিললেই সামরিক শক্তির মাধ্যমে এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙার পথে হাঁটবে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, চীন সফরে গিয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও ইরানের পারমাণবিক বোমার বিপদ নিয়ে আলোচনা করেছেন ট্রাম্প, যেখানে জিনপিংও এই বিষয়ে একমত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে আন্তর্জাতিক এই সমীকরণের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক বিপর্যয় এবং রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *