মোবাইলের আলোয় হাসপাতালের পার্কিংয়ে সন্তান প্রসব, কাঠগড়ায় সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা! – এবেলা

মোবাইলের আলোয় হাসপাতালের পার্কিংয়ে সন্তান প্রসব, কাঠগড়ায় সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের হাজারো সরকারি দাবির মাঝেই ফের একবার চিকিৎসা গাফিলতির এক চরম ও অমানবিক ছবি সামনে এসেছে। প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে মাঝরাতে সরকারি হাসপাতালে গিয়েও মিলল না ন্যূনতম চিকিৎসা পরিষেবা। হাসপাতালের মূল ফটকে ঝুলছে তালা, ভেতরে দেখা নেই কোনো ডাক্তার বা নার্সের। অগত্যা খোলা আকাশের নীচে, হাসপাতালেরই গাড়ি পার্কিং করার জায়গায় মোবাইলের আলোয় এক ফুটফুটে পুত্র সন্তানের জন্ম দিতে বাধ্য হলেন এক প্রসূতি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার ফরিদাবাদের সেক্টর ৩ এলাকার ৩০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ফার্স্ট রেফারেল ইউনিট’ (এফআরইউ) সরকারি হাসপাতালে। ভুক্তভোগী ওই মহিলার নাম বালেশ, তিনি স্থানীয় বদোলি গ্রামের বাসিন্দা।

বন্ধ গেট ও চরম উদাসীনতা

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মাঝরাতে হঠাৎই বালেশের তীব্র প্রসব যন্ত্রণা শুরু হলে রাত ১টা ৪০ মিনিট নাগাদ তাঁকে তড়িঘড়ি ওই সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিজনেরা। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায় জরুরি বিভাগের মূল গেটটি বাইরে থেকে তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে। জরুরি সহায়তার জন্য সেখানে কোনো ডাক্তার, নার্স কিংবা স্বাস্থ্যকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা রোগীকে নিয়ে পরিবারের লোকজন হাসপাতালের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ক্রমাগত চিৎকার এবং বারবার গেট ধাক্কানো সত্ত্বেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকায় নিরুপায় হয়ে তাঁরা পিছনের একটি ছোট গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে হন্যে হয়ে চিকিৎসক ও নার্সদের খুঁজতে থাকেন। কিন্তু আপদকালীন পরিস্থিতিতে ডিউটিতে থাকা কোনো চিকিৎসাকর্মীই যথাসময়ে এগিয়ে আসেননি।

মোবাইলের আলোয় প্রসব ও পরবর্তী পদক্ষেপ

যন্ত্রণা চরমে পৌঁছালে আর কোনো উপায় না দেখে বালেশের সঙ্গে আসা এক অভিজ্ঞ মহিলা আত্মীয়ের সহায়তায় হাসপাতালের পার্কিং লটেই প্রসবের ব্যবস্থা করা হয়। ঘুটঘুটে অন্ধকারে আলোর জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজেদের মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে ধরে রাখেন। মোবাইলের ওই সামান্য আলোতেই শেষ পর্যন্ত একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন বালেশ। সন্তান জন্মের বেশ কিছু ক্ষণ পর টনক নড়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এবং তড়িঘড়ি মা ও সদ্যোজাত শিশুকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসেছে হরিয়ানার স্বাস্থ্য দফতর। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নাইট ডিউটির দায়িত্বে চরম গাফিলতির প্রমাণ মেলায় এবং কর্তব্যরত স্থানে অনুপস্থিত থাকার কারণে একজন নার্স ও অপর এক হাসপাতাল কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *