নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে অবসাদে চার পড়ুয়ার মৃত্যু, ‘সিস্টেমেটিক মার্ডার’ বলে মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
জাতীয় যোগ্যতা নির্ধারণকারী পরীক্ষা বা নিট (NEET) ঘিরে প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবার এক মর্মান্তিক রূপ ধারণ করেছে। পরীক্ষার অনিয়ম এবং প্রশ্নফাঁসের জেরে তৈরি হওয়া চরম মানসিক অবসাদ সহ্য করতে না পেরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত চারজন পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। হাত শিবিরের দাবি, এই মৃত্যুগুলি কেবল সাধারণ আত্মহত্যা নয়, এগুলি আসলে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার গলদের কারণে হওয়া ‘সিস্টেমেটিক মার্ডার’ বা প্রাতিষ্ঠানিক খুন।
পড়ুয়াদের মৃত্যু ও বাড়ছে চরম অবসাদ
নিটের প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের জেরে সবশেষ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গোয়াতে। সেখানে সিদ্ধার্থ হেগড়ে নামের এক ১৭ বছরের নাবালক পড়ুয়া মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করেছে। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে সে উল্লেখ করেছে যে, গত দু’বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করার পর সে পরীক্ষা দিয়েছিল এবং পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার মতো মানসিক বা শারীরিক শক্তি তার আর নেই। সিদ্ধার্থ ছাড়াও ২০ বছরের অংশিকা পাণ্ডে, ২১ বছরের ঋত্বিক মিশ্র এবং ২২ বছরের প্রদীপ মেঘওয়ালের মতো আরও তিন চিকিৎসাপ্রত্যাশী পড়ুয়া একই কারণে প্রাণ হারিয়েছেন। বছরের পর বছর কঠোর প্রস্তুতির পর পরীক্ষার এই অনিয়ম ও অনিশ্চয়তা দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মারাত্মক মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় ডেকে আনছে।
রাজনৈতিক উত্তাপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রথম থেকেই নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে সরব থাকা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেছেন। বিগত বছরের উদাহরণ টেনে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বারবার প্রশ্নফাঁস এবং সিবিআই তদন্তের পরেও কেন স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না এবং কেন বারবার ব্যর্থ হওয়া শিক্ষামন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হচ্ছে না। এই ঘটনার জেরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। চিকিৎসা শিক্ষার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা নষ্ট হওয়ায় গোটা শিক্ষাব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে, যা আগামী দিনে আরও বড় গণ-আন্দোলনের রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
