রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই খোলস ছাড়ল শিয়ালদহ ও হাওড়া, রেলের মেগা অভিযানে স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা – এবেলা

রাজনৈতিক পালাবদলের পরেই খোলস ছাড়ল শিয়ালদহ ও হাওড়া, রেলের মেগা অভিযানে স্বস্তিতে নিত্যযাত্রীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই এক আমূল পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল কলকাতার দুই প্রধান রেল টার্মিনাস। দীর্ঘদিনের চেনা ভিড়, হট্টগোল আর ঘিঞ্জি পরিবেশ কাটিয়ে কার্যত ‘হকার মুক্ত’ রূপ নিল শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশন চত্বর। রেল কর্তৃপক্ষের কড়া মনোভাব এবং পুলিশি তৎপরতায় উধাও হয়েছে একের পর এক অবৈধ স্টল। স্টেশন চত্বর আচমকা এভাবে ফাঁকা ও পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠায় যেমন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ যাত্রীরা, তেমনই এই অভিযানের স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ইউনিয়নের দাপট ও তোলার রমরমা রুখতে কড়া পদক্ষেপ

রেল সূত্র এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন হকার ইউনিয়নের দাপট ছিল চরমে। হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত রুটিন মাফিক তোলা আদায়ের বিনিময়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠছিল অবৈধ দোকানপাট। এর ফলে শিয়ালদহের ১ থেকে ২১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সামনের অংশ এবং হাওড়ার প্রবেশপথ সাধারণ মানুষের হাঁটার অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। তবে রাজ্যে নতুন সরকার আসতেই সেই চেনা ছবি রাতারাতি উধাও। শিয়ালদহ ডিআরএম অফিস সূত্রে জানা গেছে, হকারদের আগেই নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। অনেকেই নিজে থেকে পসরা গুটিয়ে নিলেও, যাঁরা টালবাহানা করছিলেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শনিবার রাতে হাওড়া স্টেশনের বাইরে রীতিমতো বুলডোজার চালিয়ে প্রায় ১৫০টি অবৈধ দোকান গুঁড়িয়ে দেয় রেল কর্তৃপক্ষ।

যাত্রীদের স্বস্তি ও পুনর্বাসনের ভবিষ্যৎ

রেল কর্তৃপক্ষের এই মেগা উচ্ছেদ অভিযানকে দুহাত তুলে স্বাগত জানিয়েছেন নিত্যযাত্রীরা। তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, হকারদের দখলে থাকায় স্টেশনে ঢোকা-বেরোনোর সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো, এমনকি পকেটমারি বা নিরাপত্তার অভাবও তৈরি হতো। স্টেশন চত্বর খাঁ খাঁ করায় এখন অনায়াসে যাতায়াত করা যাচ্ছে। তবে এই অভিযানের একটি মানবিক দিকও উঠে এসেছে। একাংশের মতে, উচ্ছেদ জরুরি হলেও এই হকারদের রুটিরুজির কথা মাথায় রেখে নতুন সরকারের উচিত দ্রুত একটি নির্দিষ্ট পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা। বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট ব্যারিকেডের বাইরে হকারদের কেনাবেচা চললেও, স্টেশন সংলগ্ন মূল অংশ পুরোপুরি হকার মুক্ত রাখতে রেল ও প্রশাসন কতটা কঠোর থাকে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *