‘শোলে’র সঙ্গে তুলনা করেও কেন ডুবল ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’, নিজেই খোলসা করলেন আমির খান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০১৮ সালের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’ বক্সঅফিসে বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল। প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে তৈরি এই ছবিটি ভারতের বাজারে মাত্র ১৫১ কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম হয়। মুক্তির পর থেকেই সমালোচক ও দর্শক—উভয় মহলের চরম নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার শিকার হওয়া এই ছবির ব্যর্থতা নিয়ে এতদিনে মুখ খুলেছেন বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খান। সম্প্রতি একটি আলোচনা সভায় তিনি এই বিগ-বাজেট সিনেমাটির ব্যর্থতার পেছনের আসল কারণগুলো বিশ্লেষণ করেছেন।
চিত্রনাট্যে বারবার বদল ও মূল ভাবনার বিচ্যুতি
আমির খানের মতে, ছবির মূল গল্পে অমিতাভ বচ্চন ও ধর্মেন্দ্র অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘শোলে’র স্পষ্ট ছায়া ছিল। ‘শোলে’তে যেমন পরিবারের হত্যার প্রতিশোধ নিতে ঠাকুর চরিত্রটি জয় ও বীরুর সাহায্য নিয়েছিল, এখানেও ঠিক একইভাবে ফতিমা সানা শেখ অভিনীত ‘জ়াফিরা’ চরিত্রটির পরিবার ধ্বংস হওয়ার পর সে আমির খানের ‘ফিরঙ্গি’ চরিত্রের সাহায্য পায়। তবে এই শক্তিশালী গল্প থাকা সত্ত্বেও কাস্টিং বা তারকা নির্বাচনের খাতিরে বারবার ছবির চিত্রনাট্যে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। পরিচালকের মূল লেখার এই অহেতুক রদবদলই সিনেমার মূল ভাবনাকে নষ্ট করে দেয় এবং দর্শক শেষ পর্যন্ত যা পর্দায় দেখেছেন, তা আসল গল্প ছিল না।
গল্পের চেয়ে চরিত্রকে প্রাধান্য দেওয়ার খেসারত
সাধারণত ক্যারিয়ারে সিনেমা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আমির খান চরিত্রের চেয়ে ছবির গল্পকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে ‘ঠগস অব হিন্দোস্তান’-এর ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম ঘটেছিল। অভিনেতা স্বীকার করেছেন যে, এই ছবিতে তিনি গল্পের চেয়ে নিজের অভিনীত ‘ফিরঙ্গি’ চরিত্রটিকে অতিরিক্ত প্রাধান্য দিয়েছিলেন। নিজের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তকে ভুল আখ্যা দিয়ে আমির জানান, পছন্দের অভিনেতা-অভিনেত্রী না পাওয়া গেলেও চিত্রনাট্যে হাত দেওয়া উচিত হয়নি। গল্প বাদ দিয়ে চরিত্রের পেছনে ছোটার এই ভুল সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বক্সঅফিসে খুব খারাপভাবে বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছিল।
