পণের চরম লোভের বলি গৃহবধূ, ১১ লাখ নগদ ও ৫১ লক্ষের গয়না পেয়েও মন ভরল না শ্বশুরবাড়ির! – এবেলা

পণের চরম লোভের বলি গৃহবধূ, ১১ লাখ নগদ ও ৫১ লক্ষের গয়না পেয়েও মন ভরল না শ্বশুরবাড়ির! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্রেটার নয়ডায় পণপ্রথার এক নৃশংস ও হাড়হিম করা রূপ সামনে এল। বিয়ের সময় পাত্রপক্ষের দাবি মেনে কোটি টাকার সম্পত্তি দেওয়ার পরেও শেষ রক্ষা হলো না। আরও পণ আদায়ের দাবিতে ২৫ বছর বয়সি এক তরুণীকে ছাদ থেকে ফেলে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁরই স্বামী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে গ্রেটার নয়ডার জলপুরা এলাকার ইকোটেক-৩ থানা এলাকায়। মৃত তরুণীর নাম দীপিকা নাগর। ঘটনার নৃশংসতায় স্তম্ভিত স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মহল।

লোভের কোনো শেষ নেই

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে রিতিক তানওয়ারের সঙ্গে দীপিকার বিয়ে হয়েছিল। মেয়ের বাবা সঞ্জয় নাগর পাত্রপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী বিয়েতে নগদ ১১ লক্ষ টাকা, ৫০ লক্ষ টাকার সোনার গয়না এবং একটি বিলাসবহুল স্করপিও গাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের মাত্র চার মাস পর থেকেই দীপিকার ওপর শুরু হয় চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকেরা একটি ফরচুনার গাড়ি এবং আরও নগদ ৫১ লক্ষ টাকা দাবি করছিল। সেই অতিরিক্ত পণ না পেয়েই রবিবার গভীর রাতে দীপিকাকে বাড়ির ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া হয়।

আইনি পদক্ষেপ ও প্রভাব

রবিবার সকালেও দীপিকা ফোনে তাঁর ওপর চলা অত্যাচারের কথা বাপের বাড়িতে জানিয়েছিলেন। সেই মতো মীমাংসা করতে পরিবারের সদস্যরা মেয়েটির বাড়ি যান। কিন্তু আলোচনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। সেন্ট্রাল নয়ডার ডিসিপি শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তরুণীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তরুণীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মূল অভিযুক্ত স্বামী রিতিক তানওয়ার এবং শ্বশুর মনোজ তানওয়ারকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই ঘটনা সমাজব্যবস্থায় পণের মতো কুপ্রথার ভয়াবহ প্রভাব এবং সুরক্ষাকবচ থাকা সত্ত্বেও আইনি ভয়ের অভাবকে আবারও বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *