সাবধান! শ্যাম্পু কেনার আগে বোতলের গায়ে এই ৪টি ক্ষতিকর রাসায়নিক দেখলেই এড়িয়ে চলুন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সারা বছর জুড়েই কম-বেশি সবাই চুল পড়ার সমস্যায় ভোগেন। বাজারচলতি নামী-দামী অ্যান্টি-হেয়ার ফল শ্যাম্পু ব্যবহার করেও অনেক সময় কোনো সুফল মেলে না, উল্টো চুল পড়ার পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক হলেও, এর চেয়ে বেশি চুল পড়া চিন্তার বিষয়। অনেকে একে শরীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভাবলেও, আসলে এর পেছনে দায়ী হতে পারে আপনার প্রতিদিনের ব্যবহৃত শ্যাম্পু। শ্যাম্পুকে আকর্ষণীয় ও দীর্ঘস্থায়ী করতে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কিছু রাসায়নিকই মূলত আপনার চুল ও মাথার ত্বকের বারোটা বাজাচ্ছে।
যে ৪টি রাসায়নিক বাড়াচ্ছে চুল পড়ার সমস্যা
শ্যাম্পুতে থাকা ক্লোরিন চুলের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর কারণে চুলের আগা ফাটতে শুরু করে, মাথার ত্বকে চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লোরিন মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল শুষে নেয়, ফলে চুলের স্বাভাবিক রং ও আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে, ফ্লুরাইডের কারণে মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা চুল ঝরার পরিমাণকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
অধিকাংশ শ্যাম্পুর বোতলে সোডিয়াম লরেট সালফেট এবং সোডিয়াম লরেথ সালফেট নামক দুটি সিন্থেটিক যৌগের নাম দেখা যায়। শ্যাম্পুতে মূলত ফেনা তৈরি এবং মাথার ত্বক থেকে ধুলোময়লা ও অতিরিক্ত তেল পরিষ্কার করতে এটি ব্যবহৃত হলেও, নিয়মিত ব্যবহারে চুলের স্থায়ী ক্ষতি হয়। এছাড়া, শ্যাম্পু যাতে দীর্ঘদিন বোতলবন্দি অবস্থায় নষ্ট না হয় এবং ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাক বাসা বাঁধতে না পারে, সেজন্য ব্যবসায়িক স্বার্থে প্যারাবেন ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিকটি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করে চুল পড়া বাড়িয়ে দেয়।
রাসায়নিকের প্রভাব ও সচেতনতা
রাসায়নিক উপাদানগুলোর অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক পিএইচ (pH) ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। এটি চুলের ফলিকলগুলোকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে চুল গোড়া থেকে আলগা হয়ে ঝরে পড়ে। অনেক সময় রাসায়নিকের প্রভাবে মাথার ত্বকে স্থায়ী অ্যালার্জি বা ইনফেকশনও দেখা দিতে পারে। তাই চুল পড়া রোধে শ্যাম্পু কেনার আগে বোতলের লেবেল ভালো করে দেখে নেওয়া এবং ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ শ্যাম্পু নির্বাচন করা জরুরি।
