ওবিসি তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের, হাইকোর্টের রায় মেনেই পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাসনব্যবস্থায় একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) তালিকা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য মন্ত্রিসভা। সোমবার নবান্নে আয়োজিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওবিসি তালিকা পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। পূর্বতন সরকারের আমলের উপ-শ্রেণিবিন্যাস বাতিল করে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়েই এই আইনি জটিলতা কাটানোর পথে হাঁটছে বর্তমান প্রশাসন।
সোমবারের বৈঠক শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ চাকরি এবং পদগুলির ক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। হাইকোর্টের রায়কে পুরোপুরি সম্মান জানিয়ে রাজ্য সরকার ওবিসি তালিকার প্রয়োজনীয় সংশোধন করবে এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী যেসব যোগ্য গোষ্ঠীকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আদালতের নির্দেশ ও আইনি জটিলতার সূত্রপাত
এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়। বাম জমানার শেষভাগ থেকে শুরু করে তৃণমূল সরকারের আমলের প্রথম দিক পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ এই অনুমোদনটি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, যথাযথ সমীক্ষা না করে মূলত ধর্মের ভিত্তিতে এই সম্প্রদায়গুলোকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। হাইকোর্টের সেই রায়ের ফলে ২০১০ সালের পর থেকে ইস্যু হওয়া প্রায় ৫ লক্ষ ওবিসি শংসাপত্র বাতিল হয়ে যায়, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও প্রশাসনের লক্ষ্য
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই আইনি পথ মেনে কাজ করার পক্ষপাতী। পূর্বতন সরকারের ওবিসি তালিকা তৈরির অস্বচ্ছতাকে দূর করে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত অনগ্রসরদের চিহ্নিত করাই এখন নতুন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে রাজ্যে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের আইনি অচলাবস্থার অবসান ঘটতে চলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের দায় থেকে রাজ্য মুক্ত হবে, অন্যদিকে তেমনই প্রকৃত যোগ্য ও বঞ্চিত সম্প্রদায়গুলো আইনি জটিলতামুক্ত হয়ে সংরক্ষণের প্রকৃত সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
