‘ইউরোপ নয়, বাংলাই হোক স্বপ্নের ঠিকানা’ — কৃতীদের সামনে কেন এমন বার্তা শুভেন্দুর? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেধা পাচার রুখে বাংলাতেই মেধার বিকাশ চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! সোমবার কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে রাজ্য স্কুলশিক্ষা দফতর আয়োজিত কৃতী পরীক্ষার্থীদের এক বিশেষ সংবর্ধনা সভায় এই প্রত্যয়ী বার্তা দেন তিনি। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কেন্দ্রীয় বোর্ডের (সিবিএসই ও আইসিএসই) কৃতিদের সংবর্ধনা দেওয়ার এই মঞ্চ থেকেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির জন্য একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
মেধা ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা ও নতুন স্কলারশিপ
পশ্চিমবঙ্গের মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা যে বিশ্বমঞ্চে, বিশেষ করে আমেরিকা বা ইউরোপের প্রথম সারির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছেন, তা স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বিশ্বমানের এই মেধা যাতে ভিনদেশে চলে না গিয়ে রাজ্যের বুকেই থেকে যায় এবং বাংলার উন্নয়নে কাজে লাগে, সেটাই এখন রাজ্য সরকারের প্রধান লক্ষ্য। মেধা পাচার বা ‘ব্রেন ড্রেন’ রুখতে এবং সব স্তরের পড়ুয়াদের সমান সুযোগ দিতে রাজ্য সরকার এবার ‘বিবেকানন্দ মেরিটস স্কলারশিপ যোজনা’ চালু করতে চলেছে। সম্প্রতি রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে দেওয়া কিছু সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের যে ঘোষণা করেছিলেন, তার পরিপূরক হিসেবেই মেধার ভিত্তিতে এই নতুন সর্বজনীন স্কলারশিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বেসরকারি স্কুলকে সতর্কবার্তা ও নারীশিক্ষায় জোর
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র কৃতিদের প্রশংসাই করেননি, বরং রাজ্যের শিক্ষা কাঠামোর সংস্কারে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির অনিয়ন্ত্রিত ফি বৃদ্ধি নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না যাতে সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলি সমস্যায় পড়ে এবং সরকারকে বিব্রত হতে হয়। একই সঙ্গে পড়ুয়াদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও যত্নবান ও সংবেদনশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। বিদ্যাসাগরের আদর্শ মেনে নারীশিক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার এবং সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের শিক্ষার মার্গদর্শনকে সামনে রেখে রাজ্যের শিক্ষানীতিকে আরও আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর বক্তব্যে। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী উদ্ধৃত করে কৃতিদের স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজকে স্মার্টফোনে এ পি জে আব্দুল কালামের অনুপ্রেরণামূলক বক্তৃতা শোনারও আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী।
