নিজের বুথেই হারলেন মমতা, রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ বলে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তোপ শুভেন্দুর – এবেলা

নিজের বুথেই হারলেন মমতা, রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ বলে ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তোপ শুভেন্দুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। নিজের ঘরের মাঠ বলে পরিচিত ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের বুথেই এবার পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সোমবার সন্ধ্যায় ক্যামাক স্ট্রিটে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত এক ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠান থেকে এই তথ্য তুলে ধরে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন, নিজের বুথেই যখন মানুষ তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের কার্যত ইতি ঘটে গিয়েছে।

ভোটের ফল ও বুথভিত্তিক বিপর্যয়

নির্বাচনী ফলাফলের চুলচেরা বিশ্লেষণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের যে চারটি বুথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট দেন, তার প্রতিটিতেই বিজেপি লিড পেয়েছে। কেবল মমতাই নন, ধাক্কা খেয়েছে ঘাসফুল শিবিরের হেভিওয়েট নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের দুর্গও। চেতলা গার্লস স্কুলের যে পাঁচটি বুথে ফিরহাদ হাকিম ভোট দেন, সেখানেও জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিশেষত চেতলার বাঙালি হিন্দু ভোটাররা বিজেপিকে ১৫ হাজার ভোটের বড় লিড দিয়েছেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরাজয় তৃণমূলের দীর্ঘদিনের চেনা ভোটব্যাংকে বড়সড় ধসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরাজয়ের কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পর প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া এবং বুথ স্তরে সাংগঠনিক দুর্বলতাই তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ। বিশেষ করে খাস কলকাতায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নিজস্ব বুথেই পরাজয় প্রমাণ করে যে, সাধারণ ভোটারদের একাংশ বিকল্প নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখেছেন। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই আসনেই জয়লাভ করলেও, শেষ পর্যন্ত নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই শপথ নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভবানীপুরে এটিই ছিল তাঁর প্রথম সভা, যেখান থেকে তিনি জনতাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের মনোবল ভেঙে দেওয়ার কৌশল নিয়েছেন। নিজের বুথে এই হার আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং কর্মী-সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *