ভোগান্তি এড়াতে এবার সোজা দাওয়াই! প্রশাসনের দরজায় মানুষকে আর ঘোরাতে পারবেন না আধিকারিকরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সরকারি কাজ নিয়ে আমজনতার বছরের পর বছর ধরে চলা হয়রানি ও ভোগান্তি বন্ধ করতে এবার সরাসরি জেলাশাসকের দ্বারস্থ হলেন পুরুলিয়ার বিজেপি বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। সোমবার পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনিক ভবনে একটি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলাশাসক সুধীর কোন্থমের কাছে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক পরিষেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বিভিন্ন দপ্তরে কাজের চক্করে সাধারণ মানুষকে আর কোনোভাবেই হয়রান বা প্রতারিত করা যাবে না।
জনগণের প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক সক্রিয়তা
বাম আমল থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানা— দীর্ঘ সময় ধরে জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষকে নিজেদের ন্যায্য কাজের জন্য প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি বঞ্চনা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার অবসান ঘটাতেই এবার সরব হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। বিধায়কের এই কড়া অবস্থানের পর পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের মধ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। জেলা প্রশাসনের অন্দরে তৈরি হয়েছে এক ধরনের সতর্কবার্তা, যা আগামী দিনে সরকারি পরিষেবা প্রদানের গতি বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হয়রানি বন্ধের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই পদক্ষেপের মূল কারণ হলো প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত ও জেলা শিক্ষা দপ্তরের মতো জায়গাগুলোতে চলা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও ঢিলেমি বন্ধ করা। বিধায়কের সাফ কথা, মানুষ যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে প্রত্যাশা বজায় রেখেছেন, তার মর্যাদা প্রশাসনকে দিতেই হবে। যদি কোনো কাজের জন্য পাঁচ দিন সময় লাগে, তবে নির্দিষ্ট সেই দিনেই যেন কাজ সম্পন্ন করা হয়, মানুষকে যেন রোজ রোজ ঘুরতে না হয়।
এই কড়া বার্তার ফলে জেলাজুড়ে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমলে সাধারণ মানুষ দ্রুত গতিতে সরকারি পরিষেবা পাবেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট দিনে কাজ শেষ করার এই নতুন নিয়মের ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে এবং দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত জনক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
