‘দেখা করতে ডেকেই গাড়িতে উঠে বসল…’ ভয়ঙ্কর হানিট্রাপ! কীভাবে ফাঁসলেন ব্যবসায়ী? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
অনলাইন বন্ধুত্বে ডেকে এনে সর্বস্ব লুট, জামনগরে পর্দাফাঁস ভয়ংকর হানি ট্র্যাপ চক্রের!
সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় পাতা ফাঁদ, আর তাতেই পা দিয়ে সর্বস্ব খোয়ালেন গুজরাটের জামনগরের এক ব্যবসায়ী। সম্প্রতি হেমাংশুভাই জয়ন্তীলাল বজানি নামের এক ব্যক্তিকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে অপহরণ, মারধর ও সর্বস্ব লুটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ পূজা অরবিন্দভাই পারমার (২৫) ও যশ ওরফে আরিয়ান নরশেভাই রাঠোর (১৯) নামের দুই মূল অভিযুক্ত সহ দুই নাবালককে গ্রেপ্তার করেছে।
যেভাবে চলত ব্ল্যাকমেইলের খেলা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি পূজা নামের ওই তরুণী। তিনি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরুষদের সাথে বন্ধুত্ব করতেন এবং পরে তাদের নির্জন স্থানে সাক্ষাতের জন্য ডাকতেন। গত ৮ মে হেমাংশুভাই যখন পূজার ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে পৌঁছান, তখন পূজা তার গাড়িতে উঠে বসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পূজার অন্য সহযোগীরা জোরপূর্বক হেমাংশুভাইকে অপহরণ করে এবং ছুরির ভয় দেখিয়ে তার রূপোর চেইন, ব্রেসলেট ও নগদ টাকা লুট করে নেয়।
নেপথ্য কারণ ও দীর্ঘদিনের অপরাধের ইতিহাস
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের এক দীর্ঘ ও ভয়ংকর অপরাধের ইতিহাস সামনে এসেছে। সহজ উপায়ে মোটা টাকা আয়ের লোভেই অভিযুক্তরা এই অপরাধের পথ বেছে নিয়েছিল। গত দুই বছর ধরে জামনগর ও তার আশেপাশের এলাকায় এই দল সক্রিয় ছিল। এর আগে রাজকোটের নিমেষ প্যাটেল নামের এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে তার অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল এই চক্র। এছাড়া প্রায় ছয় মাস আগে এক স্থানীয় ব্যবসায়ীকেও একইভাবে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছিল তারা।
এই চক্রের গ্রেপ্তারের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, সাইবার অপরাধের এই নতুন রূপ উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও আগের অপরাধের খতিয়ান খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এক ঝলকে
- সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের ফাঁদ পেতে জামনগরে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও সর্বস্ব লুটের ঘটনায় ৪ জন গ্রেপ্তার।
- মূল অভিযুক্ত পূজা ও যশ নামের দুই যুবক-যুবতী সহ এই চক্রে জড়িত রয়েছে দুই নাবালকও।
- বিগত দুই বছরে একাধিক ব্যক্তিকে অশ্লীল ভিডিও ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছে এই চক্র।
- সহজ উপায়ে ধনী হওয়ার লোভেই এই হানি ট্র্যাপের ফাঁদ পাতা হতো বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
