গেরুয়া রঙের আগ্রাসী লুক, সামনে এল দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনের ছবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থার ইতিহাসে এক সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই স্পিড রেল প্রকল্প। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে রেল মন্ত্রকের ভবনের ৪ নম্বর গেটের সামনে এই বুলেট ট্রেনের একটি বিশাল ছবি স্থাপন করা হয়েছে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেনটি অত্যন্ত আধুনিক এরোডাইনামিক ডিজাইনে তৈরি এবং এর বাহ্যিক রূপ বেশ আগ্রাসী। ট্রেনের মূল আকর্ষণ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে আকর্ষণীয় গেরুয়া রঙ, যা এক নজরেই সবার নজর কাড়ছে।
রেল সূত্রে খবর, এই স্বপ্নের বুলেট ট্রেন ২০২৭ সালের ১৫ অগাস্ট ভারতের স্বাধীনতা দিবসে সাধারণ মানুষের জন্য চালু হতে পারে। বর্তমানে এই দুই শহরের মধ্যে যাতায়াত করতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, বুলেট ট্রেন চালু হলে তা মাত্র ২ ঘণ্টায় নেমে আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিষেবা চালু হলে দেশের রেল পরিবহণ ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সমুদ্রের নিচে টানেল
এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করতে প্রযুক্তিগত দিক থেকে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হাই স্পিড রেল কর্পোরেশন লিমিটেড (NHSRCL) জানিয়েছে, মুম্বইয়ের ভিখরোলি এলাকায় ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। এর মধ্যে ১৬ কিলোমিটার অংশ তৈরি করতে ৩ হাজার টনেরও বেশি ওজনের দুটি বিশাল টানেল বোরিং মেশিন (TBM) ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই কাজের জন্য প্রায় ৩৫০ টন ওজনের একটি কাটারহেড মাটির নিচে নামানো হয়েছে, যা এই প্রকল্পের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ২১ কিলোমিটার টানেলের মধ্যে প্রায় ৭ কিলোমিটার অংশ থাকবে সমুদ্রের নিচে। থানে খাড়ির তলদেশ দিয়ে তৈরি হতে চলা এই সুড়ঙ্গটিই হবে ভারতের প্রথম ‘আন্ডার সি রেল টানেল’।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যতের রেল
এই হাই স্পিড রেল প্রকল্প ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামো উন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। দুই বাণিজ্যিক শহরের মধ্যে যাতায়াতের সময় এক ধাক্কায় অনেকটা কমে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে। রেল মন্ত্রকের দাবি, এই প্রকল্প কেবল যাতায়াতের সময়ই কমাবে না, বরং অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, উচ্চ গতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতীয় রেলকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করবে।
