রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন চাপে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক, সুপ্রিম কোর্টে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত আইনি লড়াই – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
প্রাথমিকে ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়া ৩২ হাজার শিক্ষকের ভাগ্য আবারও বড়সড় আইনি টানাপোড়েনের মুখে পড়ল। কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, সোমবার শীর্ষ আদালত তা গ্রহণ করেছে। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ ইস্যু করেছে। আগামী আগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মামলাটি গ্রহণ করার সময় বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে জানান, দেশের শিশুদের ভবিষ্যৎ যাঁদের ওপর ন্যস্ত রয়েছে, তাঁরা প্রকৃত অর্থেই যোগ্য কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও হাইকোর্টের ভিন্ন রায়
এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৩ সালের মে মাসে। ২০১৬ সালের প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং নিয়মমাফিক অ্যাপটিটিউড টেস্ট না নেওয়ার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের ঐতিহাসিক নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিঙ্গল বেঞ্চের এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রায় পুরোপুরি খারিজ করে দেয়। মানবিক দিক এবং দীর্ঘ নয় বছরের কর্মজীবনের কথা বিবেচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল যে এই শিক্ষকদের কারও চাকরি যাবে না।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ডিভিশন বেঞ্চের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে এই জটিলতা নতুন মাত্রা পায়। মূলত নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং যোগ্য বনাম অযোগ্য নির্ধারণের আইনি লড়াইয়ের কারণেই বিষয়টি এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৌঁছেছে।
শীর্ষ আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে সংশ্লিষ্ট ৩২ হাজার শিক্ষক ও তাঁদের পরিবারের ওপর নতুন করে মানসিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হলো। আগস্ট মাসের শুনানির ওপর নির্ভর করছে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের ভবিষ্যৎ। যদি সুপ্রিম কোর্ট নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে প্রাধান্য দেয়, তবে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং হাজার হাজার শিক্ষক এক গভীর সংকটের মুখে পড়তে পারেন। অন্যদিকে, যোগ্যতার প্রমাণ মিললে দীর্ঘদিনের এই আইনি অনিশ্চয়তার অবসান ঘটবে।
