বিবেকানন্দ স্কলারশিপ চালু রাখার ঘোষণা শুভেন্দুর, কারা পাবেন এই সুবিধা, জেনে নিন খুঁটিনাটি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেধাবী ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ফের বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জনসেবামূলক প্রকল্পগুলি বন্ধ হওয়া নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ পূর্ববর্তী সরকারের আমলে চালু হলেও তা বন্ধ করা হচ্ছে না। বরং ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে সেই অর্থ মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চমাধ্যমিক স্তর থেকে শুরু করে গবেষণা স্তর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মেধা ও আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে এই বৃত্তির সুবিধা পাবেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারী পড়ুয়াদের কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক স্তর, কলা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞান শাখার স্নাতক স্তর এবং ইউজিসি অনুমোদিত অন্যান্য পেশাদারি কোর্সের শিক্ষার্থীদের শেষ পরীক্ষায় অন্তত ৬০ শতাংশ নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি, আবেদনকারী শিক্ষার্থীর পারিবারিক বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
আইআইটির ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যালের স্নাতক ও ডিপ্লোমা এবং নার্সিং কোর্সের পড়ুয়ারা এই বৃত্তির আওতাভুক্ত থাকবেন। এছাড়া ফার্মেসি, প্যারামেডিক্যাল, কলা ও বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তর, বিএড এবং পিএইচডি বা গবেষণারত শিক্ষার্থীরাও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
বৃত্তির পরিমাণ ও প্রয়োজনীয় নথি
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কোর্স অনুযায়ী বৃত্তির আর্থিক পরিমাণের তারতম্য রয়েছে। বিজ্ঞান শাখা ও ইউজিসি অনুমোদিত অন্যান্য পেশাদারি কোর্সের স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক ১৫০০ টাকা (বার্ষিক ১৮ হাজার টাকা) বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কলা ও বাণিজ্য বিভাগের স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারা পাবেন মাসিক ১০০০ টাকা (বার্ষিক ১২ হাজার টাকা)।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পড়ুয়াদের নির্দিষ্ট কিছু নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর পরিবারের আয়ের শংসাপত্র (ইনকাম সার্টিফিকেট), অ্যাকাডেমিক পেমেন্টের রশিদ, আধার কার্ড, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আবেদনকারীর সই, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং পূর্ববর্তী পরীক্ষার মার্কশিট। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
