নিজেদের রায়ের সমালোচনা করে নজিরবিহীন বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, উমর খালিদের জামিন খারিজের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল – এবেলা

নিজেদের রায়ের সমালোচনা করে নজিরবিহীন বার্তা সুপ্রিম কোর্টের, উমর খালিদের জামিন খারিজের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দিল্লি দাঙ্গার মামলায় বন্দি ছাত্রনেতা উমর খালিদের জামিন খারিজের সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির একটি বেঞ্চ নিজেদের পূর্ববর্তী রায়ের তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছে, এই ক্ষেত্রে আদালতের সুনির্দিষ্ট আইনি নীতি যথাযথভাবে মানা হয়নি। কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের (ইউএপিএ) অধীনে থাকা মামলার ক্ষেত্রেও ‘জামিনই নিয়ম এবং জেল ব্যতিক্রম’—এই আইনি ধারাটি বজায় থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে সিএএ-বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালীন অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদকে। দিল্লি পুলিশের দাবি ছিল, খালিদ উস্কানিমূলক বক্তৃতা দিয়ে একটি পূর্ব-পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হয়েছিলেন। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কারাবন্দি। চলতি বছরের জানুয়ারি এবং পরবর্তীতে এপ্রিলেও সুপ্রিম কোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।

আইনি নজির লঙ্ঘনের সমালোচনা

বিচারপতি বি ভি নাগরত্না এবং বিচারপতি ইউ জাস্টিন ভুইয়াঁর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চটি জানিয়েছে, ২০২১ সালের ‘ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বনাম কেএ নাজিব’ মামলার যুগান্তকারী রায়টি উমর খালিদের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, দ্রুত বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে ইউএপিএ মামলাতেও সাংবিধানিক আদালত জামিন মঞ্জুর করতে পারে।

বিচারপতি ভুঁইয়া স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, কম সদস্যের বিচারকের বেঞ্চ কোনোভাবেই বৃহত্তর বেঞ্চের সিদ্ধান্ত বা ঘোষিত আইনকে দুর্বল বা অগ্রাহ্য করতে পারে না। জানুয়ারি মাসে উমর খালিদের জামিন নামঞ্জুরকারী দুই বিচারপতির বেঞ্চের সিদ্ধান্তের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি জানান, সন্দেহ থাকলে বিষয়টি বৃহত্তর বেঞ্চে পাঠানো উচিত ছিল, কিন্তু বাধ্যতামূলক আইনি নজির এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হয়নি।

রায়ের সম্ভাব্য প্রভাব ও কারণ

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই আত্মসমালোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কঠোর ধারার মামলায় দীর্ঘদিন শুনানির অপেক্ষায় থাকা বন্দিদের মানবাধিকার ও আইনি সুরক্ষার বিষয়টি এই পর্যবেক্ষণের ফলে নতুন গতি পাবে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অভিযোগ যত গুরুতরই হোক না কেন, দ্রুত বিচার পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার এবং উচ্চতর আদালতের আইনি নজিরকে ছোট বেঞ্চ এড়াতে পারে না। শীর্ষ আদালতের এই অবস্থান আগামীদিনে ইউএপিএ-র মতো কঠোর আইনের অধীনে থাকা অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মীদের জামিনের ক্ষেত্রে একটি বড় দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *