পাহাড়ে মুছল ঘাসফুল, ক্ষমতা হারাতেই মিরিক পুরসভা থেকে সাফ তৃণমূল – এবেলা

পাহাড়ে মুছল ঘাসফুল, ক্ষমতা হারাতেই মিরিক পুরসভা থেকে সাফ তৃণমূল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় উত্থান-পতনের আবহেই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব পটপরিবর্তন ঘটল। পাহাড়ের ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই ঘাসফুল শিবিরের সংগঠনে নামল ধস। দল ছাড়লেন হিল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা বর্ষীয়ান নেতা লালবাহাদুর রাই। লোকসভা ও সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের পর পাহাড়ে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই এই ভাঙন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সোমবার সকালে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের গোটা মিরিক মহকুমা কমিটি একযোগে দলত্যাগের ঘোষণা করেছে। এই আকস্মিক দলত্যাগের ফলে মিরিকসহ সমগ্র দার্জিলিং ও কার্শিয়াংয়ের পাহাড়ি অঞ্চলে তৃণমূল কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ল।

ভাঙনের মূল কারণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হতেই এই ধস অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। গত ৪ বছর ধরে মিরিক পুরসভায় কোনো ভোট হয়নি। ২০২২ সালে নির্বাচিত পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হলেও ভোট না করিয়ে লাল বাহাদুর রাইকেই প্রশাসক পদে বসিয়ে রেখেছিল তৎকালীন রাজ্য সরকার। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূল ক্ষমতায় না থাকায় আর বিনাভোটে চেয়ার দখলে রাখা সম্ভব ছিল না। এছাড়া, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ের তিনটি আসনেই তৃণমূলের জোটসঙ্গী অনীত থাপার ‘ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা’ (BGPM)-র ভরাডুবি এবং রাজ্যে বিজেপির সরকার আসার পরই পাহাড়ের ঘাসফুল শিবিরে এই মহাধস নামল। পদত্যাগের পর লালবাহাদুর রাই জানান, পাহাড়ি মানুষের আবেগ ও আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

পাহাড়ের রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

একদা জিএনএলএফ (GNLF)-এর দাপুটে নেতা লাল বাহাদুর রাই ২০১৭ সালে মিরিক পুরভোটের ঠিক আগে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সেবার ৯ আসনের মিরিক পুরসভায় ৬টি আসন জিতে পাহাড়ের বুকে প্রথমবার খাতা খুলে পুরবোর্ড দখল করেছিল তৃণমূল। লাল বাহাদুর রাইয়ের মতো হেভিওয়েট নেতার এই প্রস্থান পাহাড়ের রাজনীতিতে তৃণমূলের ভবিষ্যৎকে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। চেয়ারম্যান লাল বাহাদুর রাইয়ের পাশাপাশি দলের সমস্ত স্তরের নেতা-কর্মীরা একযোগে দল ছাড়ার কারণে মিরিক মহকুমায় তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্ব এখন খাদের কিনারায়। দলত্যাগীরা অবশ্য তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য কী হবে বা তাঁরা অন্য কোনো দলে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অবশ্য দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করে পাহাড়ের সংগঠনকে আবার চাঙ্গা করার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *