‘সবটাই অস্বচ্ছ!’ পাঁচুর বয়ানেই ফাঁস সুজিত? প্রাক্তন মন্ত্রীর ১৪ দিনের জেল – এবেলা

‘সবটাই অস্বচ্ছ!’ পাঁচুর বয়ানেই ফাঁস সুজিত? প্রাক্তন মন্ত্রীর ১৪ দিনের জেল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সাবেক চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক বয়ানে বিপাকে সুজিত, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে মিলল নতুন মোড়

দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। আদালতের সাম্প্রতিক শুনানিতে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এই পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়ের বয়ানকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছে। তাঁর দেওয়া বয়ান অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম পুরসভার কর্মী নিয়োগের গোটা প্রক্রিয়াটি চরম অস্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়েছিল। এই বিস্ফোরক দাবি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

আউটসোর্সিংয়ের জের ও সুজিতের ওপর দায়

ইডির আইনজীবী আদালতে জানিয়েছেন, পাচু রায়ের দাবি অনুযায়ী এই পুরসভার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছিল। প্রাক্তন চেয়ারম্যান এই পদ্ধতিতে আপত্তি জানালেও, প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং তাঁর অনুগত কাউন্সিলাররা সেই আপত্তিকে বিন্দুমাত্র আমল দেননি। ফলে গোটা নিয়োগ দুর্নীতির দায় কার্যত সুজিত বসুর দিকেই ঠেলে দিয়েছে প্রাক্তন চেয়ারম্যানের এই বয়ান। এই অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কারণেই যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন এবং এর পেছনে বড় কোনো আর্থিক লেনদেন জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছে তদন্তকারী সংস্থা।

জেলে প্রাক্তন মন্ত্রী

১০ দিনের ইডি হেপাজত শেষে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে পুনরায় বিশেষ আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যদিও সুজিত বসুর আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল এই দুর্নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই যুক্ত নন এবং তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে পাচু রায়ের এই নতুন বয়ান আদালতে পেশ হওয়ার পর মামলার মোড় ঘুরে গেছে এবং সুজিত বসুর আইনি জটিলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ঘটনা আগামী দিনে পুরসভাগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক ঝলকে

  • দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন চেয়ারম্যান পাচু রায়ের বয়ানকে আদালতের সওয়ালে প্রধান হাতিয়ার করল ইডি।
  • পাচু রায়ের দাবি অনুযায়ী, পুরসভার কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াই ছিল সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ এবং তা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে করা হয়েছিল।
  • এই অনিয়মের পেছনে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু ও তাঁর অনুগত কাউন্সিলারদের সরাসরি ভূমিকা ছিল বলে বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • শুনানি শেষে আদালত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *