আমেরিকাকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ভারত! শীর্ষে কে জানেন? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকাকে টপকে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এখন ভারত
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারের (ট্রেডিং পার্টনার) স্থানটি দখল করে নিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮.৪৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে ভারতের সাথে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১২৩ আরব টাকা। মাত্র সামান্য ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ৮.৪৬ শতাংশ অংশীদারিত্ব নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে আমেরিকা। অন্যদিকে, ২১ শতাংশেরও বেশি অংশীদারিত্ব নিয়ে শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে চীন।
বাণিজ্যিক পটপরিবর্তনের মূল কারণ
অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হলেও, পরবর্তী সময়ে নতুন সরকারের হাত ধরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করে। অবশ্য এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা, গম ও এলপিজি (LPG) আমদানি বৃদ্ধির কারণে গত ২০১৫ সালের বেশ কিছু মাসে আমেরিকা ভারতকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ভৌগোলিক নিকটবর্তী বাজার এবং প্রতিবেশী দেশের উপর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক নির্ভরতা বাড়ায় ভারত আবারো নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
চীন এখনো শীর্ষে, সমীকরণ বদলাচ্ছে অন্য দেশগুলোরও
শীর্ষে থাকা চীন এখনো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক শক্তি হিসেবে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। পোশাক শিল্পের কাঁচামাল, ভারী যন্ত্রপাতি ও তৈরি পণ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশ এখনো ব্যাপকভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। ভারতের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশের শীর্ষ পাঁচ বাণিজ্য অংশীদারের তালিকায় এসেছে নতুন সমীকরণ। তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া, যেখান থেকে মূলত কয়লা, ভোজ্যতেল ও শিল্প কাঁচামাল আমদানি করা হয়। অন্যদিকে সয়াবিন, চিনি ও কৃষি পণ্যের বড় উৎস হিসেবে পঞ্চম স্থানটি দখল করে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল।
বাণিজ্যিক বৈচিত্র্যকরণ এবং ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাড়ার এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, ভারতের সাথে শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা এবং সীমান্তে পণ্য খালাসের দীর্ঘসূত্রতা দূর করা গেলে এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সুবিধা বাড়াতে এই অঞ্চলের অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
এক ঝলকে
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হয়েছে ভারত।
- বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যে ভারতের অংশ ৮.৪৭ শতাংশ এবং আমেরিকার অংশ ৮.content ৪৬ শতাংশ।
- ২১ শতাংশের বেশি বাণিজ্যের মালিকানা নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে চীন।
- চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল।
