পাতজুড়ে বাঙালিয়ানা, এবার জিআই জয়ের লক্ষ্যে দুধেশ্বর চাল থেকে মিষ্টি দই! – এবেলা

পাতজুড়ে বাঙালিয়ানা, এবার জিআই জয়ের লক্ষ্যে দুধেশ্বর চাল থেকে মিষ্টি দই! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

জিআই স্বীকৃতির আন্তর্জাতিক দৌড়ে এবার বাঙালির প্রিয় হরেক পদের স্বাদ

খাওয়াদাওয়া নিয়ে বাঙালির চিরন্তন খুঁতখুঁতুনি এবং সেরার সেরা মেনু দিয়ে পাত সাজানোর ঐতিহ্য এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন পালক যুক্ত করতে চলেছে। সরু ও সুগন্ধি চাল থেকে শুরু করে শেষপাতে দই-মিষ্টি—বাঙালির নিজস্ব খাদ্য সম্পদের এক বড় অংশকে এবার ‘জিআই’ (জিয়োগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন) স্বীকৃতির জন্য প্রস্তুত করছে রাজ্য। সম্প্রতি পেটেন্ট অফিসে করা বাংলার একাধিক ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদানের আবেদন গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলার এই নিজস্ব সম্পদগুলির বিশ্বজনীন স্বীকৃতি পাওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

চাল ও মিষ্টির রাজকীয় লড়াই

অতিসম্প্রতি জিআই রেজিস্ট্রিতে জমা পড়া আবেদনগুলির মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে দুই ধরনের চাল—রাধাতিলক এবং দুধেশ্বর। এর আগে গোবিন্দভোগ বা কালোলুনিয়ার মতো চাল এই স্বীকৃতি পেলেও, এবার প্রোটিন ও ভিটামিনে ভরপুর সুগন্ধি রাধাতিলক এবং খিচুড়ি, পোলাও কিংবা ফ্যান-ভাতের জন্য জনপ্রিয় দুধেশ্বর চাল সেই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। পাশাপাশি মিষ্টির দুনিয়ায় রসগোল্লার আইনি সাফল্যের পর এবার রসমালাই, মিষ্টি দই, কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া ও সরভাজাকে জিআই স্বীকৃতি এনে দিতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এমনকি পাহাড়ি রডোডেনড্রন ফুলের পাপড়ির নির্যাস থেকে তৈরি বিশেষ ওয়াইন ‘গুরাস’-এর জন্যও আবেদনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে বাঙালিয়ানার স্বাদকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঐতিহ্য রক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রভাব

খাদ্য গবেষকদের মতে, এই জিআই স্বীকৃতির মূল কারণ হলো বাংলার নিজস্ব রন্ধনশিল্পের মৌলিকত্ব রক্ষা করা এবং নকল পণ্যের বাজারজাতকরণ রুখে দেওয়া। এর আগে কৃষ্ণনগরের সরপুরিয়া ও সরভাজা প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণের অভাবে পিছিয়ে পড়লেও এবার ‘মিষ্টি উদ্যোগ’ নামক সংগঠনের হাত ধরে জোরালো প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই স্বীকৃতি মিললে গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্থানীয় মিষ্টান্ন শিল্পীদের বিশ্ববাজারে এক বিশাল বাণিজ্যিক দুয়ার খুলে যাবে। একইসঙ্গে ভোজনরসিক অবাঙালি ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে এই খাবারগুলির গ্রহণযোগ্যতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

এক ঝলকে

  • রাধাতিলক ও দুধেশ্বর চালের পাশাপাশি মিষ্টি দই, রসমালাই, সরপুরিয়া ও সরভাজা জিআই স্বীকৃতির দৌড়ে শামিল হয়েছে।
  • পেটেন্ট অফিসে বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উপাদানগুলির আবেদন ইতিমধ্যেই গৃহীত হয়েছে।
  • অতীতে ব্যর্থ হলেও এবার সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ নিয়ে কৃষ্ণনগরের বিখ্যাত দুই মিষ্টির জন্য লড়াইয়ে নেমেছে মিষ্টান্ন বিক্রেতাদের সংগঠন।
  • পাহাড়ি রডোডেনড্রন ফুলের পাপড়ির নির্যাস থেকে তৈরি ওয়াইন ‘গুরাস’-এর জন্যও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *