প্রসবের পর রাতারাতি স্বাভাবিক হওয়া আসাম্ভব! পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন নিয়ে নজিরবিহীনভাবে সরব পরিণীতি চোপড়া

প্রসবের পর রাতারাতি স্বাভাবিক হওয়া অসম্ভব! পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন নিয়ে নজিরবিহীনভাবে সরব পরিণীতি চোপড়া

শিয়ালদহ রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবকের মেগা নিয়োগ এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর ঝটিকা কলকাতা সফরের আন্তর্জাতিক খবরের মাঝেই, এবার গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে এক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বাস্তবমুখী খবর সামনে এল। নতুন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রসব-পরবর্তী বিষণ্ণতা তথা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ (Postpartum Depression) নিয়ে এবার খোলাখুলি মুখ খুললেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। ২০২৫ সালে মা হওয়ার পর সম্প্রতি পুনরায় নিজের চেনা ছন্দে ও লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের দুনিয়ায় ফিরেছেন তিনি। আর কাজে ফিরেই এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নতুন মায়েদের প্রতিদিনের কঠিন লড়াই এবং মানসিক বিপর্যস্ততা নিয়ে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী।

ইম্পা-র সভাপতি পিয়া সেনগুপ্তের প্যানিক অ্যাটাক এবং দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলরের রহস্যমৃত্যুর মতো মানসিক অবসাদজনিত খবরগুলির সমান্তরালে, সমাজ ও পরিবারের চোখরাঙানি এড়িয়ে পরিণীতির এই সাহসী বার্তা নতুন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় এক মস্ত বড় পদক্ষেপ।

হরমোনের ওঠানামা ও মানসিক বিপর্যয়, রাতারাতি ফেরা আসাম্ভব

নিজের মা হওয়ার পর থেকে কাজে ফেরার এই দীর্ঘ সফরকে কেন্দ্র করে পরিণীতি চোপড়া স্পষ্ট জানান, সন্তান প্রসবের পর একজন মহিলার শরীরে ও মনে যে আমূল পরিবর্তন আসে, তা কাটিয়ে রাতারাতি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়।

সাক্ষাৎকারে নিজের উপলব্ধি প্রকাশ করে পরিণীতি বলেন:

“সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন মায়ের শরীরে মারাত্মক হরমোনের ওঠানামা (Hormonal Imbalance) ঘটে। এর সাথে যুক্ত হয় তীব্র মানসিক ক্লান্তি ও অনিদ্রা। সমাজ বা পরিবার অনেকেই আশা করেন যে মা হওয়ার পর মহিলারা বুঝি কয়েকদিনেই আগের মতো হাসিখুশি ও চটপটে হয়ে উঠবেন, কিন্তু বাস্তবটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই সময়ে রাতারাতি স্বাভাবিক হওয়া যেকোনো মহিলার পক্ষেই আসাম্ভব।”

প্রয়োজন শক্তিশালী ‘সাপোর্ট সিস্টেম’, ভাঙন রুখতে দাওয়াই

অভিনেত্রীর মতে, এই কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে একজন নতুন মায়ের সবচেয়ে বেশি যেটা প্রয়োজন, তা হলো একটি শক্তিশালী ‘সাপোর্ট সিস্টেম’ বা পারিবারিক ভরসার হাত। সন্তান লালন-পালনের সমস্ত দায়িত্ব একা মায়ের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে যদি স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা পাশে এসে দাঁড়ান, তবেই এই ডিপ্রেশনের আঁধার কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। পরিণীতি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মনে করিয়ে দেন যে, সঠিক সময়ে সঠিক পারিবারিক সমর্থন বা মানসিক সান্ত্বনা না পেলে একজন নতুন মা ভেতর থেকে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন। আর একজন মা যদি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন, তবে তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কুপ্রভাব গোটা সংসারের ওপর গিয়ে আছড়ে পড়ে।

মনোবিদ ও সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, ওটিটির পর্দায় সোনাক্ষী সিনহার লড়াই কিংবা চাণক্যের সাফল্যের কঠিন শৃঙ্খলার নীতির মাঝেও পরিণীতি চোপড়ার এই বক্তব্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। ভারতীয় সমাজে এখনও প্রসব-পরবর্তী এই মানসিক অবসাদ বা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনকে একটি সাধারণ ‘মুড সুইং’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। সেই চেনা ট্যাবু বা কুসংস্কার ভেঙে পরিণীতির মতো একজন গ্লোবাল আইকন যখন এই বিষয়ে সরব হন, তা দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ কর্মজীবী ও গৃহবধূ মায়েদের নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে নতুন করে সাহস জোগাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *