অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিতে নতুন পদক্ষেপ! তালিকা থেকে ভুয়ো ও মৃত নাম ছাঁটতে ‘মিশন মোড’-এ সমীক্ষা

অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা দিতে নতুন পদক্ষেপ! তালিকা থেকে ভুয়ো ও মৃত নাম ছাঁটতে ‘মিশন মোড’-এ সমীক্ষা

সীমান্ত সুরক্ষায় মোদী সরকারের ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প এবং শিয়ালদহ রোজগার মেলায় ৫১ হাজার যুবকের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার মেগা খবরের মাঝেই, রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর নতুন সরকার। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য প্রশাসন। তবে প্রকল্প চালুর আগেই রাজকোষের অপচয় রুখতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তালিকায় থাকা ভুয়ো, স্থানান্তরিত ও মৃত প্রাপকদের নাম পুরোপুরি বাদ দিতে এবার নবান্নের নির্দেশে ‘মিশন মোড’-এ জোর কদমে স্ক্রুটিনি ও সমীক্ষা শুরু হয়েছে।

একদিকে যখন জুন মাস থেকে ১০টি পরিচয়পত্রের যেকোনো একটি দেখিয়ে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াতের মেগা প্রস্তুতি চলছে, ঠিক অন্যদিকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ডেটাবেস সংশোধনে প্রশাসনের এই ‘দাবাং’ অ্যাকশন ছাব্বিশের সুশাসনে এক মস্ত বড় পদক্ষেপ।

আবেদন করতে হবে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের, তবে মিলবে ভোটার তালিকা

নতুন সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, বিগত সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগী মহিলাদের এই নতুন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়ার জন্য নতুন করে কোনো আবেদনপত্র বা ফর্ম জমা করতে হবে না। পুরোনো ডেটাবেসকে ভিত্তি করেই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। তবে এই ডেটাবেসে বহু গলদ ও ভুয়ো নাম রয়েছে বলে অভিযোগ আসছিল।

সেই জট কাটাতে এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন:

  • বিএলও (BLO) স্তরে যাচাই: ডেটাবেসের সাথে সরাসরি ভোটার তালিকা বা ‘এসআইআর’ (SIR) মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। কোনো প্রাপক মারা গেছেন কি না, কিংবা বিয়ের পর বা অন্য কোনো কারণে এলাকা ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়েছেন কি না, তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করার জন্য বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের ময়দানে নামানো হয়েছে।

২৫ মে-র মধ্যে ডেডলাইন, জেলাশাসকদের রিপোর্ট জমার নির্দেশ

প্রকল্পটি যাতে ১ জুন ভোর থেকেই সম্পূর্ণ ত্রুটিহীনভাবে চালু করা যায়, তার জন্য সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। নবান্ন থেকে জারি করা কড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আগামী ২৫ মে-র মধ্যে রাজ্যের সমস্ত বুথে এই যাচাই ও নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করতে হবে। স্ক্রুটিনি শেষ হওয়ার পরেই সমস্ত ব্লকের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে জেলাশাসকদের (DM) কাছে পাঠাতে হবে এবং জেলাশাসকেরা সেই স্ক্রুটিনি রিপোর্ট সরাসরি মুখ্যসচিবের দফতরে জমা করবেন।

প্রশাসনিক ও আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যখন ভাটপাড়া-হালিশহরে তৃণমূলের পুরবোর্ড ভাঙন রুখতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের মাটি কামড়ে পড়ে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং অন্যদিকে ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেট রুখতে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সিআইআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন— সেই উত্তাল রাজনৈতিক আবহে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে এই প্রশাসনিক শুদ্ধিকরণ অত্যন্ত দূরদর্শী পদক্ষেপ। এর ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত দুস্থ ও যোগ্য মহিলারা কোনো রকম জট ছাড়াই ১ তারিখ থেকে অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন, ঠিক অন্যদিকে সরকারি অর্থের অপচয় ও দুর্নীতিতে এক মস্ত বড় কোপ বসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *