২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেই পিরামিডে ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি! প্রাচীন মিশরের বিস্ময়কর প্রকৌশল

২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দেই পিরামিডে ভূমিকম্প প্রতিরোধী প্রযুক্তি! প্রাচীন মিশরের বিস্ময়কর প্রকৌশল

মিশরের গিজার পিরামিড নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণায় এবার এক অভাবনীয় তথ্য সামনে এল। নতুন একটি গবেষণায় জানা গেছে, আজ থেকে প্রায় ৪৬০০ বছর আগে (২৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে) তৈরি এই পিরামিডগুলির অনন্য গঠনশৈলী আসলে সেগুলিকে ভূমিকম্প প্রতিরোধী (Earthquake Resistant) করে তুলেছে। প্রাচীন নির্মাতাদের এই বিস্ময়কর নির্মাণকৌশল আধুনিক যুগের তাবড় প্রকৌশলীদেরও চমকে দিচ্ছে।

বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পের সময় ভূমির কম্পনশীল কম্পাঙ্ক (Vibrational Frequency) সাধারণত ০.৬ হার্টজ হয়ে থাকে। অন্যদিকে, গিজার পিরামিডের নিজস্ব প্রাকৃতিক কম্পাঙ্ক (Natural Frequency) ২.০ থেকে ২.৬ হার্টজ। এই দুই কম্পাঙ্কের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকার কারণে ভূমিকম্পের তীব্র তরঙ্গ পিরামিডের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি করতে পারে না।

এর পাশাপাশি গবেষকেরা জানিয়েছেন, পিরামিডের ভেতরের ফাঁপা কক্ষগুলি (Hollow Chambers) ভূমিকম্পের সময় তৈরি হওয়া কম্পনের অনুরণন (Resonance) বহুলাংশে হ্রাস করে দেয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই পিরামিডটি যেকোনো বড়সড় ভূকম্পন নিজের মধ্যে শুষে নিতে সক্ষম হয়। আধুনিক স্থাপত্যবিদ্যায় বহুতল ভবন সুরক্ষায় যে ধরণের কম্পাঙ্ক প্রকৌশল ব্যবহার করা হয়, প্রাচীন মিশরের কারিগরেরা হাজার হাজার বছর আগেই সেই বিজ্ঞানকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন, যা মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য নিদর্শন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *