অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে টাকা পাওয়ার আগে বড় ধাক্কা, বাদ পড়তে চলেছেন লক্ষ লক্ষ অযোগ্য সুবিধাভোগী! – এবেলা

অন্নপূর্ণার ভাণ্ডারে টাকা পাওয়ার আগে বড় ধাক্কা, বাদ পড়তে চলেছেন লক্ষ লক্ষ অযোগ্য সুবিধাভোগী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। তবে এই প্রকল্প চালুর আগেই সুবিধাভোগীদের তালিকা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত করতে এক নজিরবিহীন ও বড়সড় যাচাই অভিযানে নামছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। প্রশাসনের আশঙ্কা, বর্তমান ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের তালিকায় বহু অযোগ্য, স্থানান্তরিত কিংবা অস্তিত্বহীন ব্যক্তির নাম রয়ে গিয়েছে। সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবার তাই সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

গত ১৯ মে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে নবান্নে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই নতুন প্রকল্পের আওতায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, যেখানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা ১,৭০০ টাকা করে পান।

কড়া নজরে এএসডিডি তালিকা ও বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা

সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর আগে তালিকায় যাতে শুধুমাত্র প্রকৃত ও যোগ্য সুবিধাভোগীরাই থাকেন, তা নিশ্চিত করা হবে। এই লক্ষ্যে বুথ-স্তরের আধিকারিকদের সহায়তায় প্রতিটি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ সমীক্ষা চালানো হবে। জেলা প্রশাসনগুলিকে আগামী ২৫ মে-র মধ্যে এই সমীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই যাচাই প্রক্রিয়ায় মূলত ‘ASDD’ (Absent, Shifted, Dead, Duplicate) তালিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, যে সমস্ত ভোটাররা বর্তমানে অনুপস্থিত, অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়েছেন, মারা গিয়েছেন কিংবা যাদের নাম দুবার রয়েছে, তাদের তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় ইতিমধ্যেই খসড়া তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল এবং পরবর্তীতে আরও প্রায় ৬ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটারের নাম বাদ পড়ে। এই বিপুল সংখ্যক নাম যাতে কোনোভাবেই নতুন সরকারি অনুদানের তালিকায় স্থান না পায়, প্রশাসন এখন সেটাই নিশ্চিত করতে চাইছে। তবে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম ফেরানোর জন্য ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত কিছুটা সহানুভূতিশীল অবস্থান নেওয়া হলেও, আবেদন খারিজ হলে তারা আর এই সুবিধা পাবেন না।

আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা ও অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা

প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে অতীতের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানের বিপুল আর্থিক চাপ। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে আমফান পরবর্তী ক্ষতিপূরণ এবং আবাস যোজনার মতো একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে ভুয়ো ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম থাকা নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিস্তর বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার শুরু থেকে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না বর্তমান প্রশাসন।

তাছাড়া, নির্বাচনী তালিকায় বিপুল সংখ্যক ভুয়ো নাম ধরা পড়ার পর সব সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য পুনরায় যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু হলে প্রতি মাসে সরকারের রাজকোষ থেকে প্রায় ৬৬৩ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সামলাতে এবং ভবিষ্যতের যেকোনো আইনি জটিলতা এড়াতে সরকারি অর্থের অপচয় রোধ করাই এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। আর এই কারণেই অযোগ্যদের চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এই চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *