যাদবপুরে ‘কুকুর-বিতর্ক’: যত্রতত্র খাওয়ানো নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ফুঁসছেন পশুপ্রেমীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
যাদবপুরে কুকুরকে খাওয়ানো নিষিদ্ধের প্রস্তাবে বিতর্ক, উপাচার্যকে প্রতিবাদপত্র শিক্ষক ও পশুপ্রেমীদের
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (JU) ক্যাম্পাসে কুকুর-বিড়ালকে যত্রতত্র খাওয়ানো নিষিদ্ধ করার এক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের ভেতরে কুকুরের কামড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর পর, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিকল্যাণ কমিটি (Animal Welfare Committee) এই কঠোর প্রস্তাবটি আনে। তবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে শিক্ষক, অশিক্ষক কর্মচারী ও পশুপ্রেমী শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ একজোট হয়েছেন।
৫৮০ জনের গণস্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্র জমা
কমিটির এই প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়ে ইতিমধ্যেই উপাচার্য (VC)-র কাছে ৫৮০ জনের গণস্বাক্ষর সম্বলিত একটি প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষক ও পশুপ্রেমীরা। তাঁদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় বা যত্রতত্র খাওয়ানো বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একেবারেই অবৈজ্ঞানিক। এর ফলে কুকুরগুলি ক্ষুধার্ত হয়ে আরও বেশি হিংস্র হয়ে উঠতে পারে, যা হিতে বিপরীত হবে। এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সহমর্মিতা ও মানবিক সংস্কৃতির পরিপন্থী বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
বিকল্প ও বৈজ্ঞানিক সমাধানের দাবি
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক অভিজিৎ গুপ্ত এই প্রসঙ্গে জানান যে, তাঁরা কর্তৃপক্ষের ওপর দায় না চাপিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে ও উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ক্যাম্পাসের ১৫টি কুকুরের নির্বীজকরণ (Sterilization) এবং টিকাকরণ করিয়েছেন। পশুপ্রেমীদের মতে, কুকুরদের খাওয়ানো বন্ধ করা নয়, বরং সুপরিকল্পিত উপায়ে নির্বীজকরণ এবং নির্দিষ্ট জোনে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করাই এই সমস্যার একমাত্র বৈজ্ঞানিক ও মানবিক সমাধান। এই প্রস্তাব প্রত্যাহার না করা হলে আগামী দিনে ক্যাম্পাসে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কুকুর-বিড়ালকে যত্রতত্র খাওয়ানো নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব প্রাণিকল্যাণ কমিটির।
- প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে উপাচার্যকে ৫৮০ জনের স্বাক্ষরিত প্রতিবাদপত্র দিলেন শিক্ষক ও পশুপ্রেমীরা।
- নিজস্ব খরচে ১৫টি কুকুরের নির্বীজকরণ করানোর দাবি অধ্যাপক অভিজিৎ গুপ্তের।
- খাওয়ানো বন্ধের সিদ্ধান্তকে অবৈজ্ঞানিক ও অমানবিক বলে দাবি করে বিকল্প পথ খোঁজার আর্জি আন্দোলনকারীদের।
