তোলাবাজির অভিযোগ, সুজিত-দেবরাজ ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
সুজিতদের গ্রেফতারের পরেই রহস্যমৃত্যু, দক্ষিণ দমদমের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
তোলাবাজি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে শাসকদলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা ও কাউন্সিলর গ্রেফতার হওয়ার আবহে এবার এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল উত্তর চব্বিশ পরগনার দমদমে। দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র শোরগোল পড়ে গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। শনিবার তাঁর নিজস্ব বাসস্থান থেকে অচৈতন্য ও ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করার পর দমদমের নাগেরবাজারের আইএলএস (ILS) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ ও তোলাবাজির অভিযোগ
রাজনৈতিক মহলে সঞ্জয় দাস অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং রাজারহাট-গোপালপুরের তৃণমূল বিধায়ক দেবরাজ চক্রবর্তীরও পরম অনুগামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিগত বেশ কিছুদিন ধরে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এলাকার বিভিন্ন প্রোমোটিং ব্যবসা ও সিন্ডিকেট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তোলাবাজি করার গুরুতর অভিযোগ উঠছিল। এই নিয়ে দলীয় স্তরে এবং প্রশাসনের অন্দরেও জলঘোলা শুরু হয়েছিল।
আত্মহত্যার কারণ ঘিরে দানা বাঁধছে রহস্য
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনে সুজিত বসু সহ বিধাননগর ও দক্ষিণ দমদম এলাকার একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার পুলিশের হাতে গ্রেফতারির পর থেকেই চরম মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন সঞ্জয় বাবু। তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের নেতাদের শ্রীঘরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি একপ্রকার কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের গ্রেফতারি নিয়েও আশঙ্কায় ছিলেন। এই অবসাদের জেরেই কি তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন, নাকি এর পিছনে অন্য কোনো গভীর রহস্য বা রাজনৈতিক চাপ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নাগেরবাজার ও লেকটাউন থানার পুলিশ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
এক ঝলকে
- দক্ষিণ দমদম পৌরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য।
- ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু এবং বিধায়ক দেবরাজ চক্রবর্তীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন এই কাউন্সিলর।
- সিন্ডিকেট ও প্রোমোটারদের কাছ থেকে অবৈধ তোলাবাজির একাধিক অভিযোগ উঠছিল সঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধে।
- শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারির পর তৈরি হওয়া মানসিক অবসাদ নাকি অন্য কোনো চাপ— মৃত্যুর আসল কারণ জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
