১৭ নোটিসে কোণঠাসা অভিষেক, তৃণমূলের অন্দরে কি রাশ হারাচ্ছেন সর্বভারতীয় সম্পাদক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের এক মাস কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল চওড়া হতে শুরু করেছে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ থেকে ১৭টি নোটিস পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। খোদ তৃণমূলের দখলে থাকা পুরসভা থেকে দলেরই দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তির কাছে এই ধরনের নোটিস যাওয়ায় দলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাশ আলগা হওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে।
অভিষেককে নোটিস এবং শুভেন্দুর বার্তা
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই শুভেন্দু অধিকারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’-এর সম্পত্তি নিয়ে তদন্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। এর পরপরই কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর পরিবার এবং সংস্থার সম্পত্তির বিষয়ে মোট ১৭টি নোটিস পাঠানো হয়। যার মধ্যে ১৪টি নোটিস গিয়েছে ৯ নম্বর বোরো এলাকা থেকে। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের পর দলের নিচু তলার কর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়া অভিষেকের ওপর এই নোটিস বিতর্ক নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।
নেতাদের দূরত্ব তৈরি ও দায় এড়ানোর রাজনীতি
এই নোটিস-কাণ্ড সামনে আসার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা দলের সর্বভারতীয় সম্পাদকের থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন। কলকাতা পুরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিল্ডিং ডিপার্টমেন্টের নোটিস পাঠানোর বিষয়ে মেয়রের জানার কথা নয়। সেই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, অভিষেকের ব্যক্তিগত বিষয়ের কোনো ইজারা তিনি নেননি। অন্যদিকে প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষও জানিয়েছেন, নোটিসের বিষয়ে যার নাম জড়িয়েছে, উত্তর দেওয়ার সঠিক ব্যক্তি তিনিই। এই নোটিস বিতর্কের মাঝেই বোরো কমিটির চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং ক্ষমতার সমীকরণ বদলে যাওয়ার কারণেই দলের অন্দরে অভিষেকের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভ ও বিদ্রোহ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। পুরসভার এই পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক চাপ এবং দলের ভেতরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। এই ঘটনার প্রভাবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বে বিভাজন আরও তীব্র হতে পারে। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনি পদ্ধতির কথা বলে অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেও, দলের বাকি নেতাদের এমন উদাসীন ও দূরত্ব বজায় রাখার মনোভাবের কারণে আগামী দিনে তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে।
