মে মাসে গোয়া ভ্রমণের প্ল্যান, ভ্যাপসা গরম ও বৃষ্টির জোড়া ফলায় কীভাবে সামলাবেন পরিস্থিতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র গোয়া মানেই আদিগন্ত সমুদ্র সৈকত, জমজমাট নৈশপার্টি আর চোখ জুড়ানো সূর্যাস্ত। তবে মরশুম না বুঝে এখানে বেড়াতে এলে আনন্দের চেয়ে ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। চলতি মে মাসে যারা গোয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আবহাওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে সেখানে দিনের বেলা তীব্র ভ্যাপসা গরম থাকলেও রাতের দিকে নামছে স্বস্তির বৃষ্টি।
তীব্র আর্দ্রতা ও বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
বর্তমানে গোয়ার তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করলেও, উচ্চ আর্দ্রতার কারণে তা আদতে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ প্রায় ৭৬ শতাংশ হওয়ায় দিনের বেলা রোদে বেরোলেই চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে পর্যটকদের। শুধু তাই নয়, দুপুরের দিকে আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মির সূচক বা ইউভি ইনডেক্স থাকছে মারাত্মক পর্যায়ে (১০/১১)। এর পাশাপাশি আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রি-মনসুন বা বর্ষা-পূর্ববর্তী পরিস্থিতির কারণে রাতের দিকে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় ৫২ থেকে ৬২ শতাংশ।
অফ-সিজনে ভ্রমণের সুবিধা ও সতর্কতা
মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত গোয়ায় মূলত গ্রীষ্মকাল চলায় এটিকে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ‘অফ-সিজন’ বা মন্দা সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময়ে পর্যটকদের ভিড় কম থাকে এবং হোটেল ও বিমানের টিকিটে আকর্ষণীয় ছাড় পাওয়া যায়। তবে তীব্র গরমের কারণে দুপুরের দিকে সমুদ্র সৈকতে ঘোরাফেরা করা প্রায় আসাম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে সমুদ্র সৈকতের অস্থায়ী দোকান বা শ্যাক এবং ওয়াটার স্পোর্টস আংশিক বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকে।
এই পরিস্থিতিতে মে মাসে গোয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। দুপুরের তীব্র রোদ এড়াতে সকাল ৭টা থেকে ১০টা এবং বিকেল ৫টার পর সমুদ্র সৈকতে যাওয়া নিরাপদ। বাইরে বেরোনোর সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সানস্ক্রিন, সানগ্লাস ও ছাতা ব্যবহার করা আবশ্যক। শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে ডাবের জল বা স্থানীয় শরবত পানের পাশাপাশি সুতির হালকা পোশাক পরিধান করা উচিত। মূলত যারা কম খরচে এবং নিরিবিলিতে গোয়া উপভোগ করতে চান, আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনাকে মাথায় রেখে তারা এখনই সফরের প্রস্তুতি নিতে পারেন।
