সীমান্তে এবার ‘অদৃশ্য পাহারা’! ড্রোন-স্মার্ট ক্যামেরা নিয়ে বড় বার্তা শাহের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কঠোর এবং প্রযুক্তিনির্ভর করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই কেন্দ্র সরকার ‘স্মার্ট বর্ডার প্রকল্প’ চালু করতে চলেছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত করা এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা।
বিএসএফ-এর সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান এবং রুস্তমজি স্মারক বক্তৃতায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে শুধু প্রচলিত পদ্ধতির উপর নির্ভর করে সীমান্ত পাহারা দেওয়া আর সম্ভব নয়। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দ্রুত এই নতুন কাঠামো তৈরি করতে চলেছে। যেখানে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হবে চালকহীন বিমান বা ড্রোন, অত্যাধুনিক রাডার, থার্মাল ক্যামেরা এবং নানা উন্নত প্রযুক্তি। এই আধুনিকায়ন কার্যকর হলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের কাজ অনেক সহজ হবে।
কঠোর নীতি ও জনবিন্যাস রক্ষার বার্তা
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নীতিতে যে আমূল পরিবর্তন এসেছে, তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে। আগে যেখানে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আলোচনার পথ খোঁজা হতো, সেখানে বর্তমান ভারত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক এবং বিমান হামলার মতো পাল্টা আঘাতের নীতি গ্রহণ করেছে। এই কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর অধিক্ষেত্র ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৫০ কিলোমিটার করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই কার্যকর করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলির সার্বিক উন্নয়নের জন্য ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।
বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের পেছনে রয়েছে বর্তমান সময়ের একাধিক জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক ও গবাদি পশু পাচার, জাল নোটের কারবার এবং ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র ও নিষিদ্ধ সামগ্রী পাচারের ঘটনা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নতুন কৌশল মূলত এই বহুমাত্রিক অপরাধ চক্রকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে সাহায্য করবে।
একই সাথে কেন্দ্র সরকার শুধু নতুন অনুপ্রবেশ বন্ধ করতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং ইতিমধ্যে যারা বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ করেছে তাদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর বিষয়েও জোর দিচ্ছে। দেশের জনসংখ্যার স্বাভাবিক ভারসাম্য বা জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টাকে সরকার কঠোর হাতে দমন করবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তা সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কেন্দ্রের আপসহীন ও আরও কঠোর অবস্থানেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
