রাজ্যে নতুন ‘বুলডোজার রাজনীতি’! বুলডোজারে চেপে মনোজ টিজ্ঞা-লক্ষণ লিম্বুদের মেগা ধন্যবাদ যাত্রা

হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় পুকুর ভরাট ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বিজেপি বিধায়কের ‘বুলডোজার হুঁশিয়ারি’ এবং বরাহনগরে তৃণমূল নেতার গ্রেফতারির তীব্র উত্তেজনার মাঝেই, এবার উত্তরবঙ্গের মাটিতে এক নজিরবিহীন ও বেনজির দৃশ্যের সাক্ষী থাকল সাধারণ মানুষ। লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল সাফল্যের পর এবার আক্ষরিক অর্থেই ‘বুলডোজার’ (Bulldozer)-এ চেপে মেগা ধন্যবাদ যাত্রা বা বিজয় মিছিল করল বিজেপি নেতৃত্ব। আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বিধানসভার অন্তর্গত বীরপাড়ায় আয়োজিত এই অভিনব মিছিলকে কেন্দ্র করে গোটা উত্তরবঙ্গ জুড়ে ব্যাপক শোরগোল ও রাজনৈতিক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের ‘যোগী মডেল’ বা বুলডোজার নীতিকে হাতিয়ার করে হুগলিতে যখন দুর্নীতি দমনের বার্তা দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখনই ডুয়ার্সের বীরপাড়ায় খোদ বিজেপির দাপুটে সাংসদ ও বিধায়কের এই বুলডোজার সফর ছাব্বিশের পরিবর্তিত বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক ট্রেন্ডের জন্ম দিল।
সিংহানিয়া ময়দান থেকে চৌপথি: বীরপাড়ায় প্রথম ‘বুলডোজার’ মিছিল
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ার সিংহানিয়া ময়দান থেকে এই হাই-প্রোফাইল ধন্যবাদ যাত্রাটি শুরু হয়। মিছিলে মূল আকর্ষণ ছিল একটি বিশাল বুলডোজার বা জেসিবি (JCB) গাড়ি। সেই বুলডোজারের ওপর চেপেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা এবং স্থানীয় বিধায়ক লক্ষণ লিম্বু। সিংহানিয়া ময়দান থেকে শুরু হয়ে ডুয়ার্সের অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বীরপাড়া চৌপথিতে গিয়ে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য মিছিল।
জেলায় এর আগে কখনও কোনো রাজনৈতিক দল বুলডোজার নিয়ে এই ধরণের মিছিল বা কর্মসূচি করেনি। ফলে এই অভিনব ‘বুলডোজার শো’ দেখতে বীরপাড়ার রাস্তার দু’ধারে শয়ে শয়ে সাধারণ মানুষের মেগা ভিড় লক্ষ্য করা গিয়েছিল। কর্মী-সমর্থকদের জয়ধ্বনি এবং ঢাক-ঢোলের আওয়াজে কার্যত উৎসবের চেহারা নেয় গোটা এলাকা।
জনগণ দুহাত ভরে আশীর্বাদ করেছে, প্রতিক্রিয়া সাংসদের
মিছিল শেষে বীরপাড়া চৌপথির এক জনসভায় দাঁড়িয়ে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি ভোটারদের কৃতজ্ঞতা জানান সাংসদ মনোজ টিজ্ঞা। তিনি বলেন, “সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। দুর্নীতি, কাটমানি এবং সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের জনগণ দুহাত ভরে বিজেপিকে আশীর্বাদ করার কারণেই আজ আমরা বিধানসভায় ২০৭টি আসন পেয়ে সরকার গড়তে পেরেছি। সাধারণ মানুষ আমাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, নতুন সরকার তার মর্যাদা রক্ষা করবে। এই বিপুল সমর্থনের জন্যই আজ ডুয়ার্সের মানুষের কাছে আমাদের এই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ যাত্রা।”
বদলাচ্ছে বাংলার রাজনীতির অভিমুখ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বীরপাড়ায় বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কের এই বুলডোজারে চড়ে মিছিল করা অত্যন্ত প্রতীকী এবং গভীর রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এর মাধ্যমে নতুন শাসকদল স্পষ্ট বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে, উত্তরপ্রদেশের মতো এবার বাংলাতেও আইন নিজের গতিতে চলবে এবং অপরাধী ও জমি মাফিয়াদের দমনে ‘বুলডোজার নীতি’ প্রয়োগ করতে তারা কোনো দ্বিধা করবে না।
একদিকে যখন রাজ্যের চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ভুয়ো বেতন রুখতে নবান্নে ‘ম্যানপাওয়ার অডিট’ শুরু হয়েছে এবং অন্যদিকে তিনবিঘা সীমান্তে বিজিবির আপত্তি উড়িয়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে প্রশাসন ‘মিশন মোড’-এ এগোচ্ছে— সেই ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদলের আবহে ডুয়ার্সের বুকে বিজেপির এই ‘বুলডোজার কূটনীতি’ আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে শাসকদলের পরবর্তী কড়া মনোভাবেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত।
