গরমে ত্বকে লাল ফুসকুড়ি কি শুধুই অ্যালার্জি নাকি লুকিয়ে আছে মারণরোগের ইঙ্গিত – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তীব্র গরমে ত্বকে ছোট ছোট লাল ফুসকুড়ি বা দানা দেখা দেওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি ঘটনা। অধিকাংশ মানুষই একে গরমের অ্যালার্জি বা ঘামাচি ভেবে অবহেলা করেন। কেউ ঘরোয়া উপায়ে পাউডার মাখেন, আবার কেউ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই চুলকানি কমানোর মলম ব্যবহার করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ফুসকুড়িকে হালকাভাবে নেওয়া বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে রয়ে যাওয়া এই ধরনের ফুসকুড়ি কিংবা লালচে দাগ আসলে লিউকোমিয়া বা ব্লাড ক্যান্সারের মতো মারণরোগের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
অস্থিমজ্জার অস্বাভাবিকতা ও ফুসকুড়ির সম্পর্ক
ব্লাড ক্যান্সার মূলত মানবদেহের অস্থিমজ্জা বা বোন ম্যারো থেকে শুরু হয়। এই রোগে রক্ত গঠনকারী কোষগুলোর ডিএনএ (DNA) পরিবর্তিত হতে শুরু করে, যার ফলে শরীরে অস্বাভাবিক হারে শ্বেত রক্তকণিকা বৃদ্ধি পায়। এই ত্রুটিপূর্ণ কোষগুলো সুস্থ রক্তকণিকাকে প্রতিস্থাপন করে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। এর প্রভাবে রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। প্লেটলেট কমে যাওয়ার কারণেই ত্বকের নিচে রক্তক্ষরণ হয়ে কোনো আঘাত ছাড়াই হঠাৎ লাল বা বেগুনি রঙের কালশিটে দাগ দেখা দেয়। পিঠে, ঘাড়ে কিংবা শরীরের অন্যান্য অংশে চাকা চাকা দাগও তৈরি হতে পারে। সাধারণ অ্যালার্জির দাগে চাপ দিলে তা সাময়িকভাবে মিলিয়ে গেলেও, ব্লাড ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই গভীর বেগুনি ছোপগুলো অপরিবর্তিত থাকে।
এক রক্তপরীক্ষাতেই মিলবে সমাধান
মাসের পর মাস এই ধরনের লক্ষণকে উপেক্ষা করলে রোগটি মারাত্মক আকার ধারণ করে। অথচ প্রাথমিক অবস্থায় সচেতন হলে একটি সাধারণ রক্তপরীক্ষার মাধ্যমেই রোগটি শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সিবিসি (Complete Blood Count) পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা এবং প্লেটলেটের সঠিক সংখ্যা জানা যায়। রিপোর্টে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়লে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
তবে চিকিৎসকেরা আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, ত্বকের প্রতিটি লাল ফুসকুড়িই ব্লাড ক্যান্সার নয়। যদি মাসের পর মাস এই লাল দগদগে দাগ থেকে যায়, তার সঙ্গে ক্রমাগত চুলকানি, চরম ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত ওজন কমে যাওয়ার মতো অন্যান্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তবেই বিষয়টি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
