বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সাঁড়াশি চাপে অভিষেক, অগ্নিমিত্রার তীব্র কটাক্ষ – এবেলা

বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে সাঁড়াশি চাপে অভিষেক, অগ্নিমিত্রার তীব্র কটাক্ষ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বেআইনি নির্মাণকে কেন্দ্র করে আইনি ও প্রশাসনিক তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮০ সালের কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (KMC) আইনের ৪০০(১) ধারা অনুযায়ী, অভিষেকের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর পারিবারিক মোট ১৭টি ঠিকানায় নোটিশ পাঠিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১ কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ মুখার্জি রোডের বহুতলসহ একাধিক ঠিকানায় এই নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যে অনুমোদিত নকশার বাইরের বেআইনি অংশ মালিকদের নিজেদের দায়িত্বে ভেঙে ফেলতে হবে, অন্যথায় কেন পুরসভা বুলডোজার দিয়ে সেই নির্মাণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে না, তার সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে হবে।

আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন, সরব বিজেপি

গতকাল এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঠিক কোন অংশ অবৈধ, স্পষ্ট করে দিক কলকাতা পুরসভা!” অভিষেকের এই প্রশ্নের পালটা জবাবে রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি বলেন, “অভিষেক তো আগে নোটিসের কথা স্বীকারই করেনি। উনি কি নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে মনে করেন? ১৫ বছরে হয়তো উনি নিজেকে তাই ভেবেছিলেন। কিন্তু এখন আর সেটা চলবে না। আমি বলব আপনি নিজে আসুন, এসে অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতো অফিসে জবাব দিন এবং বৈধ প্ল্যান দেখান। কেএমসি আপনাকে নোটিস দিয়ে দিয়েছে। আপনি নিজেকে যুবরাজ মনে করতেই পারেন, মনে করতেই পারেন যে সহযোগিতা করবেন না, তাহলে আমাদেরই যা করার করতে হবে।”

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তোলপাড়

এই ঘটনার জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, আইন সবার জন্য সমান এবং প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে কোনো বেআইনি কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। অন্যদিকে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে বা বেআইনি অংশ না ভাঙলে পুরসভা আইনি পথেই বুলডোজার অভিযান চালাতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে। এই নোটিশের জেরে আগামী দিনে কলকাতা পুরসভা ও রাজ্যের শাসক দলের অন্দরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *