ছুটি শেষে স্কুল খোলার মুখেই বিকাশ ভবনের জরুরি তলব, নজরে আধার থেকে শিক্ষক রদবদলের ৯টি বড় ইস্যু! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে দীর্ঘ গরমের ছুটি কাটিয়ে পুনরায় সরকারি বিদ্যালয়গুলি খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ঠিক এই আবহেই রাজ্যের সব জেলার স্কুল পরিদর্শকদের (ডিআই) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি প্রশাসনিক পর্যালোচনামূলক বৈঠক ডাকল বিকাশ ভবন। আগামী ২৮ এবং ২৯ মে দুই দিন ধরে এই পর্যালোচনা বৈঠক চলবে। শুক্রবার, ২২ মে বিকাশ ভবনের স্কুলশিক্ষা ডিরেক্টরেটের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। স্কুলশিক্ষা কমিশনারের জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরিবর্তিত সূচি মেনে বৈঠকটি সম্পূর্ণ ‘ভার্চুয়াল’ বা অনলাইন মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। গুগল মিটের লিঙ্ক বা কিউআর কোড স্ক্যান করে সব জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার পরিদর্শকদের এই বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকের নেপথ্য কারণ ও ৯ দফা এজেন্ডা
বিকাশ ভবন সূত্রে জানা গেছে, দুই দিনের এই ভার্চুয়াল বৈঠকে শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে মোট ৯টি সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি বা এজেন্ডা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছুটির পর নির্বিঘ্নে পঠনপাঠন শুরু করার পাশাপাশি বেশ কিছু জটিল প্রশাসনিক সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতেই এই জরুরি তলব। আলোচনার মূল বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে গরমের ছুটির পর স্কুল পুনরায় খোলা এবং সরকারি স্তরে খরচ সংকোচন বা কৃচ্ছ্রসাধন নীতি কঠোরভাবে বজায় রাখা। একই সঙ্গে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং আধার সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে।
শিক্ষক শিক্ষিকাদের যুক্তিযুক্তকরণ বা রদবদল, স্কুলগুলিতে সরকারি পাঠ্যপুস্তক সঠিকভাবে বিতরণ এবং ১০০ পয়েন্ট রোস্টার সংক্রান্ত বিষয়গুলিও এজেন্ডায় রাখা হয়েছে। এর বাইরে মানবিক কারণে চাকরির আবেদনসমূহের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং পেনশন সংক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বকেয়া মামলাগুলির স্থায়ী সমাধান করাও এই বৈঠকের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য। এছাড়া বিদ্যালয়গুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গান গাওয়ার সূচনা করার মতো তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে এই বৈঠকে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।
ভৌগোলিক বিভাজন ও সম্ভাব্য প্রভাব
কাজের সুবিধার্থে সমগ্র রাজ্যকে ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দুই ভাগে ভাগ করে দুই দিনের এই সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৮ মে দুপুর ১২টায় প্রথম দফায় মূলত উত্তরবঙ্গ ও সংলগ্ন জেলাগুলির পরিদর্শকদের নিয়ে বৈঠক হবে। এর মধ্যে রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, কালিম্পং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ এবং মুর্শিদাবাদ। ২৯ মে দুপুর ১২টায় দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণবঙ্গ ও কলকাতার দিকের জেলাগুলির বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে নদিয়া, বাঁকুড়া, ব্যারাকপুর, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতা।
স্কুলশিক্ষা কমিশনারের এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকাটি ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং স্কুলশিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের দফতরে পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকের ফলে স্কুল খোলার পর প্রশাসনিক কার্যকলাপে গতি আসবে। বিশেষ করে শিক্ষক রদবদল ও আধার সংক্রান্ত জটিলতা কাটলে স্কুল স্তরের দৈনন্দিন পরিচালনায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি পেনশন ও মানবিক কারণে চাকরির বকেয়া বিষয়গুলির দ্রুত সমাধান হলে শিক্ষা দপ্তরের দীর্ঘদিনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
