চ্যাট ফাঁসে তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিডিও নিয়োগের নেপথ্যে কি তৃণমূল নেতার সুপারিশ! – এবেলা

চ্যাট ফাঁসে তোলপাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিডিও নিয়োগের নেপথ্যে কি তৃণমূল নেতার সুপারিশ! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূলের দাপুটে নেতা জাহাঙ্গীর খান এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার তৎকালীন বিডিও শানু বক্সির মধ্যেকার একটি কথিত ‘গোপন চ্যাট’ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গেছে। সমাজমাধ্যমে এই চ্যাটের স্ক্রিনশট ফাঁস করে লোকসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভোট কারচুপির বিস্ফোরক দাবি করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তাঁর অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও পদে আনা হয়েছিল এবং এর পুরস্কার হিসেবেই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় শাসকদল বিপুল ভোটের লিড পেয়েছিল।

প্রশাসনিক সিন্ডিকেট ও সুপারিশের অভিযোগ

বিজেপি নেতার পোস্ট করা স্ক্রিনশট অনুযায়ী, শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও করার পেছনে জাহাঙ্গীর খান, শীর্ষ প্রশাসনিক স্তরের লবি এবং একটি সুনির্দিষ্ট সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। কথোপকথনে দেখা যাচ্ছে, শানু বক্সি জাহাঙ্গীর খানকে কিছু সরকারি নথির পিডিএফ পাঠাচ্ছেন এবং জাহাঙ্গীর তার জবাবে কাজ গুছিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। অন্য একটি চ্যাটে শানু বক্সিকে ফলতার বিডিও করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, এই কথোপকথনই প্রমাণ করে যে কীভাবে রাজনৈতিক সুপারিশে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানো হয়েছিল এবং পরবর্তীকালে ইভিএম জালিয়াতি ও প্রিসাইডিং অফিসারদের ভয় দেখিয়ে ভোটের ফল প্রভাবিত করা হয়েছিল।

তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি ও ক্ষোভ

এই চ্যাট ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরেও তীব্র চাঞ্চল্য ও গৃহদাহ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ফলতা বিধানসভার নির্বাচনের আগে হঠাৎ করেই নিজেকে ভোট ময়দান থেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ এই তৃণমূল নেতা। তার ঠিক পরেই এমন তথ্য সামনে আসায় দলের একাংশ জাহাঙ্গীরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। এর আগে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও শানু বক্সিকে ‘সাদা খাতার বিডিও’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন। ফলে নতুন এই ঘটনা শাসকশিবিরকে বেশ রক্ষণাত্মক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।

প্রযুক্তি বনাম নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

চ্যাট ফাঁসের এই গুরুতর অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন তৎকালীন বিডিও শানু বক্সি। তাঁর দাবি, বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে সহজেই এই ধরণের জাল চ্যাট তৈরি করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা এই সাফাই মানতে নারাজ। লোকসভা ভোটে প্রিসাইডিং অফিসারদের চমকানো এবং বুথ স্তরে কারচুপির যে অভিযোগ উঠেছে, তার সত্যতা যাচাইয়ে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আমজনতার মনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *