মাঝ আকাশে বিমানের ধাক্কা, অস্ট্রিয়ায় প্যারাগ্লাইডারের অলৌকিক বেঁচে ফেরার রোমাঞ্চকর কাহিনী! – এবেলা

মাঝ আকাশে বিমানের ধাক্কা, অস্ট্রিয়ায় প্যারাগ্লাইডারের অলৌকিক বেঁচে ফেরার রোমাঞ্চকর কাহিনী! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আকাশের বুকে রোমাঞ্চের খোঁজে প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার সাক্ষী হলেন অস্ট্রিয়ার অভিজ্ঞ প্যারাগ্লাইডার সাবরিনা। আল্পস পার্বত্য অঞ্চলের স্মিটেনহোহ পাহাড়ের কাছে মাঝ আকাশে একটি ছোট বিমানের সঙ্গে তাঁর প্যারাগ্লাইডারের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। বিমানের ধাক্কায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তীব্র গতিতে ঘুরতে ঘুরতে মাটির দিকে নেমে আসেন তিনি। সংঘর্ষের এই লোমহর্ষক ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শিউরে উঠছেন নেটিজেনরা।

দুর্ঘটনার কারণ ও অলৌকিক আত্মরক্ষা

৪৪ বছর বয়সি অস্ট্রিয়ান নাগরিক সাবরিনা একজন অত্যন্ত দক্ষ ও পেশাদার প্যারাগ্লাইডার হিসেবে পরিচিত। শনিবার আল্পসের পাহাড়ি উপত্যকায় নিজের ক্যামেরায় দৃশ্য ধারণ করার সময় হঠাৎ করেই একটি ছোট বিমান তাঁর আকাশপথে চলে আসে। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই ছোট বিমানটির প্রপেলার বা ডানার অংশটি প্যারাগ্লাইডারের একদম কাছাকাছি আসার পর আচমকা বিকল হয়ে যায়। এর ফলেই বিমানের সঙ্গে প্যারাগ্লাইডারের সরাসরি সংঘর্ষ ঘটে।

ধাক্কা লাগার পর প্যারাগ্লাইডারটি বোঁ বোঁ করে ঘুরতে ঘুরতে মাটির দিকে আছড়ে পড়তে থাকে। চরম আতঙ্কের মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে মূল প্যারাশুট খোলার মতো পরিস্থিতি না থাকলেও, শেষ মুহূর্তে অলৌকিকভাবে তাঁর প্যারাশুটটি কাজ শুরু করে। ফলে মাটিতে সজোরে আছড়ে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পান সাবরিনা।

উদ্ধার অভিযান ও সম্ভাব্য প্রভাব

দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই অস্ট্রিয়ার উদ্ধারকারী দল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় আল্পস পার্বত্য এলাকায় অভিযান চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাবরিনাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় বিমানের ২৮ বছর বয়সি পাইলটও আশঙ্কাজনকভাবে জখম হয়েছেন এবং তিনিও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে সাবরিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের বেঁচে থাকাকে এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেছেন।

এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এবং অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মধ্যে আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আল্পসের মতো জনপ্রিয় পর্যটন ও অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস জোনে ছোট বিমান এবং প্যারাগ্লাইডারদের উড্ডয়ন সীমা পুনর্নির্ধারণের দাবি উঠছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভবিষ্যতে আকাশপথে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *