সোনা পাপ্পু কাণ্ডে এবার ইডির জালে কলকাতা পুলিশের ৩০ আধিকারিক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কসবার ত্রাস সোনা পাপ্পুর আর্থিক তছরুপ ও বেআইনি জমি দখল মামলায় কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন ডিসিপি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের গ্রেপ্তারির পর এবার তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই চক্রে জড়িত থাকার অপরাধে এবার ইডির রাডারে চলে এসেছেন কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার আরও প্রায় ৩০ জন আধিকারিক। ইতিমধ্যে তাঁদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
টাকার উৎস ও দুবাইয়ের সম্পত্তি
তদন্তকারী আধিকারিকদের প্রধান লক্ষ্য এখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থের মূল উৎসটি খুঁজে বের করা। ইডি সূত্রে খবর, ধৃত প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনুর বেআইনি সম্পত্তির পরিধি শুধু এই রাজ্য বা দেশেই সীমাবদ্ধ নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দুবাইতেও তাঁর বিপুল সম্পত্তির হদিস মিলেছে। জোর করে জমি দখল ও সেখানে অবৈধ নির্মাণের মাধ্যমে যে বিশাল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তার সঙ্গেই এই পুলিশ আধিকারিকদের যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা ও ডিজিটাল ফরেনসিক
তদন্তের স্বার্থে ইডি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। তবে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে এবং নিজেদের বাঁচাতে অভিযুক্তরা চ্যাট হিস্ট্রি ও কল রেকর্ডিং সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মুছে ফেলেছে। এই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের রহস্য উদ্ঘাটনে এবার ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। মুছে ফেলা তথ্য পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হলে এই চক্রের নেপথ্যে থাকা অন্যান্য রাঘববোয়ালদের নাম এবং অপরাধের সুনির্দিষ্ট খতিয়ান সামনে আসবে। সোনা পাপ্পু, শান্তনু এবং এক ব্যবসায়ীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করে এই মামলার প্রভাব ও পুলিশ প্রশাসনের ভেতরের দুর্নীতির শিকড় কতদূর ছড়িয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
