বকরি ইদের দিন বিধায়কদের বাড়িতে সিআইডি! কী খুঁজছেন গোয়েন্দারা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বকরি ইদের দিনে দুই তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডির হানা ঘিরে চাঞ্চল্য
কলকাতার দুই প্রভাবশালী তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষের বাড়িতে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডির আকস্মিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বকরি ইদের উৎসবের দিন বৃহস্পতিবার এই অভিযানের ফলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে ব্যাপক আলোড়ন পড়ে। তবে গোয়েন্দারা যখন ওই বিধায়কদের বাসভবনে পৌঁছান, তখন কেউই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।
সই-বিভ্রাটের জেরে তদন্তের সূত্রপাত
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, বিধানসভার নথিপত্র ও শপথগ্রহণের সময় বিধায়কদের করা স্বাক্ষরের মধ্যে অসংগতি পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় শপথ নেওয়ার সময় যে স্বাক্ষর করেছিলেন, তার সাথে বিধায়কদের হাজিরা খাতায় করা স্বাক্ষরের গরমিল দেখা গেছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং পরবর্তীতে বিষয়টি গড়িয়েছে পুলিশের দোরগোড়ায়। প্রধান সচিবের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্ট বা হস্তলিপি বিশেষজ্ঞদের সাথে নিয়ে তদন্তকারীরা বিধায়কদের বাড়িতে যান। একই কারণে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও সিআইডির দল পৌঁছায় বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও পাল্টা অভিযোগ
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন প্রশাসনিক নিয়মভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আইনি প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে একে ‘পুলিশি হেনস্থা’ বলে দাবি করেছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেও অবগত করেছেন। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার এই ঘটনা আগামী দিনে রাজ্য বিধানসভার অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালীতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্বাক্ষরের এই গরমিল কেবল ভুল নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা হ্যান্ডরাইটিং এক্সপার্টদের রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে।
