৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির পথে আমেরিকা ও ইরান, ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষায় বিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের দামের প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের আলোচকরা ৬০ দিনের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা স্মারকের পরিকল্পনা নিয়ে একমত হয়েছেন, যা কার্যকর হলে গত তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামতে পারে। তবে এই প্রস্তাবিত চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সই করেননি।
চুক্তির রূপরেখা ও উদ্দেশ্য
প্রস্তাবিত এই সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তাদের পরমাণু অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। সেই সঙ্গে ৬০ দিনের এই সময়কালে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ প্রশস্ত হবে। চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীকে সচল রাখা। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইরানকে ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে পাতা মাইন অপসারণ করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। বিনিময়ে আমেরিকা তাদের নৌ অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ
যদিও চুক্তির অধিকাংশ শর্ত নিয়ে উভয় পক্ষের আলোচকরা ঐকমত্যে পৌঁছেছেন, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য কিছুটা সময় নিয়েছেন। হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। ওয়াশিংটন স্পষ্ট করেছে যে, এই মুহূর্তে ইরান থেকে কোনো অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই, যা তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি। এর পাশাপাশি, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান নতুন সামরিক সংঘাতের খবর যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা কমতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি এখন পুরোপুরি মার্কিন প্রশাসনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
